২৭ জানুয়ারি, ২০২২ ১০:৪৩

এক ইনিংসে ৪২৮ রান করা সেই পাকিস্তানি ক্রিকেটারের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক

এক ইনিংসে ৪২৮ রান করা সেই পাকিস্তানি ক্রিকেটারের মৃত্যু

আফতাব বালুচ।

বিশ্বকে বিদায় জানালেন পাকিস্তানের সাবেক টেস্ট ক্রিকেটার আফতাব বালুচ। পাকিস্তানের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট এক ম্যাচে রেকর্ড ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। ১৯৭৩-৭৪ সালে করাচিতে বেলুচিস্তানের বিরুদ্ধে ৭ উইকেটে ৯৫১ রানে তাদের ইনিংস শেষ ঘোষণা করেছিল সিন্ধু। সেই ম্যাচে ৪২৮ রানের ইনিংস খেলে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার। গত সোমবার ৬৮ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন তিনি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।

এক শোকবার্তায় পিসিবির চেয়ারম্যান রমিজ রাজা বলেছেন, আফতাব বালুচের মৃত্যুর খবর শুনে আমি গভীরভাবে শোকাহত। আমি যখন ক্রিকেটে বেড়ে উঠছিলাম, তখন আফতাব বালুচ ছিলেন অনেক বেশি জনপ্রিয় ক্রিকেটার। শুধু একাই আমি তাকে দেখে বড় হইনি, তার শেষ বেলায় তার বিপক্ষে খেলেছিলামও।   

পাকিস্তানের হয়ে খেলার খুব বেশি সুযোগ পাননি তিনি। আফতাব বালুচ পাকিস্তানের হয়ে মাত্র দুইটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলেন। ১৯৬৯ সালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৬ বছর বয়সে তার টেস্ট অভিষেক হয়েছিল। সেই ম্যাচে বালুচ করেছিলেন ২৫ রান। ছয় বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তিনি তার দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলেন। এই ম্যাচে তিনি ১২ ও অপরাজিত ৬০ রান করেছিলেন। এরপর আর কখনও পাকিস্তানি দলে নির্বাচিত হননি বালুচ।

পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশ সমৃদ্ধ আফতাবের ক্যারিয়ার। ৪০০ রান ছাড়ানো সেই ইনিংস এসেছিল ১৯৭৩-৭৪ মৌসুমে কায়েদ-ই-আজম ট্রফির ম্যাচে। তখন তিনি ছিলেন সিন্ধুর অধিনায়ক। করাচিতে ওই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে তাদের বিপক্ষে মাত্র ৯৩ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল বেলুচিস্তান। সিন্ধুর হয়ে প্রথম ইনিংসে ৫৮৪ মিনিট উইকেটে থেকে ২৫ চারে ৪২৮ রানের ইনিংসটি খেলেন আফতাব।

ওই ম্যাচে তরুণ জাভেদ মিয়াঁদাদের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে তিনি গড়েন ১৭৪ রানের জুটি। ঠিক ১০০ রান করে রান আউট হন মিয়াঁদাদ। ১৯৫৯ সালে কিংবদন্তি হানিফ মোহাম্মদের ৪৯৯ ও আফতাবের ৪২৮ ছাড়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পাকিস্তানের আর কোনো ব্যাটসম্যান ছুঁতে পারেননি চারশ। সব দেশ মিলিয়েই এই কীর্তি আছে আর কেবল ছয় জনের।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আফতাবের অভিষেক মাত্র ১৬ বছর বয়সে। ১৯৬৯ সালের অগাস্টে কায়েদ-ই-আজম ট্রফির সেই ম্যাচে পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের হয়ে হায়দরাবাদ ব্লুজের বিপক্ষে ৯ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে তিনি খেলেন অপরাজিত ৭৭ রানের ইনিংস। হাত ঘুরিয়ে ম্যাচে উইকেট নেন ১২টি।

ওই বছরেই নভেম্বরে ঢাকায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হয় তার টেস্ট অভিষেক। একমাত্র ইনিংসে ২৫ রানের বেশি অবশ্য করতে পারেননি। আরেকটি টেস্ট খেলতে তাকে অপেক্ষা করতে হয় প্রায় ছয় বছর। এর মূল কারণ ওই সময়ে পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের গভীরতা।

১৯৭২-৭৩ থেকে ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমের মধ্যে আফতাব ছিলেন তার সেরা সময়ে। পাকিস্তানের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এই সময়ে প্রায় ৫৫ গড়ে ১৪ সেঞ্চুরিতে তিনি করেন ৫ হাজারের বেশি রান। একই সময়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং অর্ডারে ছিলেন সাদিক মোহাম্মদ, মজিদ খান, জহির আব্বাস, আসিফ ইকবাল, মুশতাক মোহাম্মদ এবং পরবর্তীতে মিয়াঁদাদের মতো ব্যাটসম্যানরা। যা টেস্ট ক্রিকেটে পাকিস্তানের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের একটি।

ওই সময়ে শক্তিশালী ন্যাশনাল ব্যাংক দলের অধিনায়ক হিসেবে আফতাব ছিলেন বেশ সফল। ১৯৭৪-৭৫ মৌসুমে তার নেতৃত্বে দলটি জেতে প্যাট্রন্স ট্রফি। পরের মৌসুমে জেতে কায়েদ-ই-আজম ট্রফি ও প্যাট্রন্স ট্রফির ডাবল। এর পরের মৌসুমে আবারও দুই টুর্নামেন্টেই দলকে ফাইনালে তোলেন আফতাব। দুটিতেই অবশ্য হেরে যায় তার দল। ওই ফাইনালগুলো মিলে আফতাব সেঞ্চুরি করেন তিনটি।

এর মাঝেই একটি টেস্ট তিনি খেলার সুযোগ পান ১৯৭৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। অ্যান্ডি রবার্টস, ল্যান্স গিবসদের মতো শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেন অপরাজিত ৬০ রানের ইনিংস। যেটি হয়ে আছে তার ক্যারিয়ারের শেষ টেস্টের শেষ ইনিংস।

 

বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ

এই রকম আরও টপিক

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর