Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জুলাই, ২০১৭ ২৩:৩৭

ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বিপজ্জনক বসবাস

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বিপজ্জনক বসবাস

চট্টগ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে চলতি বর্ষা মৌসুমেই প্রায় ৫০০ পরিবারকে উচ্ছেদ করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। এসব বাসা থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয় গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ। কিন্তু অভিযানের পরই তারা আবারও ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে ফিরে আসেন। প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে টানা বর্ষণে পাহাড়ধসের আতঙ্কে ভুগছেন অনেকে। শঙ্কা দেখা দেয় পাহাড়ধসের। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন মাইকিং করে তাদের অন্যত্র সরে যাওয়ার জন্যও বলেছেন। কেউ সরে গেলেও তারা পুনরায় ফিরে আসেন। অভিযোগ আছে, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে অবৈধভাবে পাহাড় কেটে বাসা তৈরি করা হয়

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়। প্রভাব খাটিয়ে সেখানে দেওয়া হয় নাগরিক সেবার বিভিন্ন সংযোগ। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় বাসার মূল মালিকরা সটকে পড়েন। পরে আবারও রাজনৈতিক নেতাদের ইন্ধনে বসত শুরু করেন। এসব ভাড়াটিয়াও কম টাকার ভাড়ার সুবিধায় ছাড়তে চান না ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়। তাছাড়া অনেক সময় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতকেও বাধা দেন বলে অভিযোগ আছে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে অনেকেই প্রভাব খাটিয়ে বসতবাড়ি তৈরি করেছেন। এটি অবশ্যই অন্যায়। অতীতে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় নিয়ে নানাভাবে কাজ হয়েছে। এবার আমরা উচ্ছেদ অভিযানে গেলে কারা বাধা দেয় তাদেরই আগে চিহ্নিত করার উদ্যোগ নিয়েছি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কার্যকর উদ্যোগ নিতে পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছি। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের অতি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি পাহাড়ে অবৈধভাবে বসবাসকারী ৬৮৪টি পরিবারকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী উচ্ছেদ অভিযানও চলে। উচ্ছেদকৃতদের নির্দিষ্ট দুটি স্থানে অস্থায়ী পুনর্বাসন করা হলেও তারা ফের পাহাড়েই ফিরে আসেন। তবে প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে ৬৬৬টি পরিবারকে চিহ্নিত করলেও বাস্তবে এর সংখ্যা অনেক বেশি। সব পাহাড়ে অতিঝুঁকি নিয়ে প্রায় এক লাখ মানুষ বসবাস করছেন বলে জানা যায়। কিন্তু ঝুঁকি নিয়ে বাসকারীরা কেবল কম দামে ভাড়ায় থাকতে এসব পাহাড় ছাড়েন না।     

অতি ঝুঁকিপূর্ণ ১১ পাহাড় : ২০১৪ সালে জেলা প্রশাসন জরিপ চালিয়ে ১১টি পাহাড়কে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করে। এগুলো হলো— সিআরবি পাহাড়ের পাদদেশ, টাইগারপাস-লালখান বাজার রোড সংলগ্ন পাহাড়, মতিঝরনা, বাটালি হিল সংলগ্ন পাহাড়, রেলওয়ে এমপ্লয়িজ গার্লস স্কুল পাহাড়, আকবর শাহ আবাসিক এলাকা সংলগ্ন পাহাড়, ফয়স লেক আবাসিক এলাকা পাহাড়, জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটি সংলগ্ন পাহাড়, গরীবুল্লাহ শাহ্ মাজারের পাশে বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটি পাহাড়, নাসিরাবাদ শিল্প এলাকা সংলগ্ন পাহাড়, ডিসি হিলের চেরাগি পাহাড়ের দিকে ফুলের দোকানগুলোর অংশ ও পরিবেশ অধিদফতর সংলগ্ন সিটি করপোরেশন পাহাড়।

 


আপনার মন্তব্য