শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:০৬

ময়লায় ধ্বংস মৎস্য খামার

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট

ময়লায় ধ্বংস মৎস্য খামার

অনেক শখ করে জমানো টাকা আর আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ঋণ করে মৎস্য খামার করেছিলেন তিনি। কিন্তু  সেই স্বপ্নের খামার চাপা পড়েছে সিটি করপোরেশনের বর্জ্য। ক্ষতিপূরণের আশায় স্বপ্নহারা খামার মালিক সিলেট মহানগর ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা হাবিব আহমদ শিহাব এখন ঘুরছেন সিটি করপোরেশনের দ্বারে দ্বারে। জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে দক্ষিণ সুরমার পারাইরচকে জনৈক হেলাল বক্সের কাছ থেকে ১০ বছরের জন্য জমি ভাড়া নিয়ে খামারের জন্য পুকুর খনন করান মাওলানা শিহাব। এরপর পুকুরগুলোতে মাছের পোনা ছাড়েন। গত জুন মাস থেকে সিটি করপোরেশন মৎস্য খামারের পুকুরে বর্জ্য ফেলা শুরু করে। ফলে হুমকির মুখে পড়ে মৎস্য খামারটি। এ নিয়ে সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে কয়েকবার মৌখিক অভিযোগ করেন মৎস্য খামারের মালিক মাওলানা শিহাব। একপর্যায়ে তিনি তার খামারের ভিতর দিয়ে সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ করে দেন। এরপর খামারের পুকুরে বর্জ্য না ফেলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে খামারের ভিতর দিয়ে ট্রাক চলাচলের অনুমতি নেয় সিটি করপোরেশন। কিন্তু অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। সিটি করপোরেশনের ডাম্পিং স্টেশন থেকে ময়লা এসে খামারে পড়া অব্যাহত থাকে। একপর্যায়ে গত ২০ জুলাই মেয়র বরাবর লিখিত আবেদন করেন মৎস্য খামারের মালিক। আবেদনে তিনি ৬ মাস সময় প্রার্থনা করে বলেন, এই সময়ের মধ্যে মাছ বড় হয়ে গেছে। তিনি ওই স্থানে আর খামারই করবেন না। কিন্তু সিটি করপোরেশন এই আবেদনেও কর্ণপাত করেনি। অব্যাহত থাকে ময়লা ফেলা। গত প্রায় ৮-৯ মাস ধরে ময়লা ফেলে মৎস্য খামারের তিনটি পুকুর ভরাট করে ফেলা হয়েছে। এছাড়া নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে ময়লা ফেলায় দুর্গন্ধে মাওলানা হাবিব আহমদ শিহাবের খামারের বেশ কয়েকটি গরু ও ছাগল মারা গেছে বলে অভিযোগ করেছেন। সবমিলিয়ে প্রায় ৩০-৩৫ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে দাবি করেন মাওলানা শিহাব। তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের কাছে অনেক আবেদন-নিবেদন করেছি। কিন্তু সিটি করপোরেশন তাতে কর্ণপাত না করে আমার পুরো খামার ধ্বংস করে দিয়েছে। এখন ক্ষতিপূরণের আশায় সিটি করপোরেশনে ধরনা দিচ্ছি। তাতেও কোনো সুফল পাচ্ছি না।’ এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘ডাম্পিং স্টেশনের চারদিকে সীমানা প্রাচীরের কাজ চলছে। কাজ শেষ হয়ে গেলে ময়লা-আবর্জনা আর নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে যাবে না। মাওলানা শিহাবের মৎস্য খামারের কতটুকু ক্ষতি হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে। সিটি করপোরেশন তাকে কিছু ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও চিন্তাভাবনা করছে।’


আপনার মন্তব্য