শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৪ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ আগস্ট, ২০২১ ২২:৫৩

করোনার ধাক্কায় বিশ্ব এয়ারলাইনস

আবদুল কাদের

করোনার ধাক্কায় বিশ্ব এয়ারলাইনস
Google News

করোনাভাইরাসের থাবায় বিপর্যস্ত দেশি-বিদেশি বিমান পরিবহন সংস্থা। লকডাউনে যাত্রী পরিবহন বন্ধ থাকায় বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে সংস্থাগুলো। ঘুরে দাঁড়াতে দ্রুতই বাণিজ্যক ফ্লাইট চালু করতে বিমানবন্দর সচল করার পরিকল্পনা করছে অনেক দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন দেশে আটকে পড়া যাত্রীদের ফিরিয়ে আনতে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করছে এয়ারলাইনসগুলো। করোনার ধাক্কায় বিপর্যস্ত বিশ্ব এয়ারলাইনসগুলো নিয়ে আজকের রকমারি...

 

এশিয়া অঞ্চল

ভারতীয় এয়ারলাইনসে যাত্রী কমেছে ৬৩ শতাংশ

করোনা মহামারীতে বিপর্যস্ত ভারত। সংক্রমণের নতুন ঢেউ আর লকডাউন; দিন দিন দেশটির অর্থনীতিকে তলানিতে নিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি সিএপিএ ইন্ডিয়ার ‘ইন্ডিয়া এয়ারপোর্টস রিভিউ এফওয়াই ২০২১’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে ভারতের বিমানবন্দরগুলোর আনুমানিক লোকসান ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার কোটি রুপি। এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিমানবন্দরগুলোর আনুমানিক মুনাফার পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ১৬০ কোটি রুপি। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরে ভারতীয় এয়ারলাইনস ও বিমানবন্দরগুলো প্রায় ৬৩ শতাংশ যাত্রী হারিয়েছে। বিমানবন্দরগুলোর পরিচালনা বাবদ রাজস্ব আয় ৬৪ দশমিক ১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৩১০ কোটি রুপিতে। কলকাতা, চেন্নাই, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু, দিল্লি, মুম্বাই ও কোচিন বিমানবন্দরগুলোয় এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইট বাতিল এবং স্থগিত রয়েছে। দেশটির বিমানবন্দরগুলো কেবল মেডিকেল চেক ‘ওকে’ বা ভ্যাকসিন গ্রহণ করা যাত্রীদের ভ্রমণের অনুমোদন দিচ্ছে।

 

থাইল্যান্ডের এয়ারলাইনসেও ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের থাবা

করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের থাবায় কোণঠাসা থাইল্যান্ড। তৃতীয় ঢেউয়ে হঠাৎ সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় চাপের মুখে পড়েছে হাসপাতালগুলো। তিল ধারণের ঠাঁই নেই! করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের বিকল্পও ভাবছে কর্তৃপক্ষ। রাজধানীর একটি বিমানবন্দরের গুদামঘরকেই হাসপাতাল বানিয়ে ফেলা হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে ব্যাংককের ডন মং এয়ারপোর্টের একটি ওয়্যারহাউসকে ফিল্ড হাসপাতালে রূপ দেওয়া হয়েছে। এতে একসঙ্গে অন্তত ১ হাজার ৮০০ জনকে চিকিৎসা দেওয়া যাবে। এদিকে দেশটির সুবর্ণভূমি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশ-বিদেশের প্রায় ৮০ শতাংশ যাত্রী তাদের টিকিট বাতিল করেছে। কর্মকর্তাদের দাবি, দেশটির বিমানবন্দর ও এয়ারলাইনস সংস্থাগুলো গত ২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

 

ডিজিটাল পাসে খুলে যাচ্ছে সিঙ্গাপুরের দরজা

যেসব মানুষের করোনাভাইরাস পরীক্ষার এবং টিকা নেওয়ার ডিজিটাল সনদ আছে, তাদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে সিঙ্গাপুরের দরজা। খবরটি জানিয়েছে অনলাইন এশিয়া ওয়ান। এতে আরও বলা হয়, ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ) ট্রাভেল পাস আছে এমন ব্যক্তিদের গ্রহণ করবে সিঙ্গাপুর। এর আওতায় স্বীকৃত ল্যাবরেটরি থেকে দেওয়া ডাটা স্মার্টফোনের মাধ্যমে প্রদর্শন করে সিঙ্গাপুর থেকে বাইরে যাওয়া যাবে। একই সঙ্গে সিঙ্গাপুরে প্রবেশ করা যাবে। বিষয়টি এরই মধ্যে সফলতার সঙ্গে পরীক্ষা করেছে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস। এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ এবং মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসসহ কমপক্ষে ২০টি বিমান সংস্থা এই পদ্ধতি পরীক্ষা করছে। তবে দেশটির ব্যস্ততম বিমানবন্দর ও এয়ারলাইনস সংস্থাগুলো এখন যাত্রীশূন্য। কম সংখ্যক মানুষ স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে বিমানে ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন। দেশটির আইএটিএ মহাপরিচালক উইলি ওয়ালশ আশা করছেন, অন্য দেশগুলোও এই ডিজিটাল পাস অনুমোদন করে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ স্থাপন করবে।

 

হংকংয়ের বিমানবন্দরগুলোয় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থা

করোনাকালের শুরু থেকে হংকং কর্তৃপক্ষ দেশটির জনসাধারণের সুরক্ষায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভারতের ভ্যারিয়েন্ট বিশ্বের ১০০-এর বেশি দেশে ছড়িয়েছে। তা থেকে বাদ যায়নি করোনার উৎপত্তিস্থল চীনের পার্শ্ববর্তী দেশ হংকংও। সম্প্রতি হংকংয়ের বিমানবন্দরে যেসব যাত্রীর করোনা শনাক্ত হয়েছে তারা সবাই ভারতীয় বিমান সংস্থা ভিসতারার একটি ফ্লাইটে করে হংকং যান। এই ঘটনার পরপর দেশটির বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এশিয়ার বেশ কিছু দেশ থেকে যাওয়া সব ধরনের ফ্লাইট নিষিদ্ধ করে। এ ছাড়াও চীনের মূল ভূখন্ড থেকে হংকংয়ে প্রবেশের তিনটি পথের মধ্যে একটি হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। করোনাকালে অন্যান্য দেশের সংস্থাগুলোর মতো দেশটির এয়ারলাইনস সংস্থাগুলোও ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। হংকং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, করোনাকালের শুরু থেকে দেশটির জাতীয় বিমানবন্দরে প্রায় ৭০ শতাংশ যাত্রী কমেছে। যারা যাতায়াত করছেন তারা হংকংয়ে পৌঁছানোর পর যাত্রীদের বাধ্যতামূলকভাবে তিন সপ্তাহের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হচ্ছে। কোয়ারেন্টাইন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ৭২ ঘণ্টা আগে সবার করোনা পরীক্ষা করা হয়।

 

নতুন ভ্যারিয়েন্টে বিপর্যস্ত ইন্দোনেশিয়ার এয়ারলাইনস

নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্টে ইন্দোনেশিয়ায় বাড়ছে করোনা সংক্রমণ।  হাসপাতালগুলোয় বাড়ছে রোগীর চাপ, দেখা দিয়েছে অক্সিজেনের সংকট। ইন্দোনেশিয়ায় ইতিমধ্যে ‘গামা’ ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে ‘আলফা’ ভ্যারিয়েন্ট এখনো সক্রিয়, যদিও ‘ডেল্টা’ ভ্যারিয়েন্টের তীব্রতা অনেক বেশি। যার প্রভাবে অত্যন্ত খারাপ সময় পার করছে দেশটির নামিদামি এয়ারলাইনস সংস্থাগুলো। করোনার সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখীর কারণে দেশটির কর্তৃপক্ষ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বিমান ফ্লাইট বাতিল করেছে। দেশটির ব্যস্ততম বিমাবন্দরগুলো ইতিমধ্যে হয়ে পড়েছে জনশূন্য প্রান্তর। জাকার্তা ও হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্বল্প পরিসরে ফ্লাইট চালু রেখেছে। তবে ফ্লাইটে আগত যাত্রীদের বাধ্যতামূলকভাবে কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করেছে দেশটির সরকার। দেশটির বিমান সংস্থা জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের নানা ভ্যারিয়েন্ট শনাক্তের পর এয়ারলাইনসগুলোয় দেশ-বিদেশের যাত্রীদের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় অন্তত ৫৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। 

 

দক্ষিণ কোরিয়ান বিমানবন্দরে ব্যাপক সতর্কতা জারি

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ কোরিয়াকে অন্যতম সফল দেশ বলা হয়। গত জুন মাসে দেশটির সরকার মাস্ক ছাড়াই জনগণকে বাইরে যেতে অনুমতি দেয়। এমন সিদ্ধান্তই হয়তো দেশটিতে করোনা সংক্রমণের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনাভাইরাসের ডেল্টা ধরনের দ্রুত সংক্রমণ হচ্ছে। অন্যদিকে টিকাদানও ধীরগতিতে চলছে। এমতাবস্থায় দেশটির এয়ারলাইনস সংস্থাগুলো ব্যাপক সতর্কতা জারি করেছে। দেশটির বিমান সংস্থা ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়া রোধে বিমানবন্দরে কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা চালু করেছে। যে বিমানগুলো বন্দরে নামছে সেগুলোকে জীবাণুমুক্ত রাখার সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কোরীয় সরকার। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটগুলোয় যাত্রীসংখ্যা সীমিত হয়ে এসেছে। সেখানে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে, বিমান থেকে নামার পরপরই মেডিকেল টিম নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা রেখেছে।

 

বিশ্বের সেরা এয়ারলাইনস কাতার এয়ারওয়েজ

মহামারীর প্রভাব পড়েছে কাতারের বিমান পরিবহন ব্যবস্থাতেও। বিশ্বের অনেক দেশে সীমিত সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করতে যাচ্ছে। এর মাঝেই চলমান ২০২১ সালের বিশ্বের সেরা এয়ারলাইনসের খেতাব জিতেছে কাতার এয়ারওয়েজ। প্রতিবেদনে বলা হয়, এয়ারলাইনসরেটিং.কমের প্রকাশিত সর্বশেষ রেটিংয়ে এয়ার নিউজিল্যান্ডকে হটিয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে কাতার এয়ারওয়েজ। কাতারের এই জনপ্রিয় বিমান সংস্থাটি এর আগেও ছয়বার তালিকায় শীর্ষে ছিল। অস্ট্রেলিয়া ভিত্তিক বিমান সুরক্ষা এবং পণ্য রেটিং এজেন্সিটি তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে বিমানের বয়স, যাত্রীদের রিভিউ এবং পণ্যের সুবিধার দিক বিবেচনা করেছে। আরব বিশ্বের অন্যতম দেশ কাতার নিজেদের দেশের সুরক্ষার পাশাপাশি অন্যান্য দেশের সঙ্গে সতর্কতা নিয়ে এয়ারলাইনস পরিচালনা করে আসছে। যাত্রী সুরক্ষা বিধি মানা, ভ্যাকসিনেশন যাচাই, যাত্রীদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনসহ সব টিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করছে সংস্থাটি।

 

ইউরোপ অঞ্চল

ইংল্যান্ডে বিমান পরিষেবায় ফিরছে স্বাভাবিকতা

করোনাকালের শুরুর দিকে যুক্তরাজ্যের বড় বিমানবন্দরগুলো ছিল ফাঁকা। সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী আর মৃত্যুর হার থেকে বেরিয়ে এসেছে ব্রিটিশ রাজ্যটি। করোনার টিকা প্রয়োগের ফলে দেশটির এয়ারলাইনস পরিষেবা ফিরছে স্বাভাবিক অবস্থায়। তবে তারা উচ্চ ঝুঁকির দেশগুলোয় জারি রেখেছে ফ্লাইট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা। ফলে এয়ারলাইনসগুলো তাদের সব ফ্লাইট পিছিয়েছে। কোনো কোনো ফ্লাইট আবার বাতিলও করা হয়েছে। কিছু কিছু এয়ারলাইনস ইতিমধ্যে তাদের গ্রাহকদের বুকিং করা  টাকাও ফেরত দিয়েছে। গত বছর করোনার প্রভাবে যুক্তরাজ্যের বিমানের টিকিট  বুকিং ৭৫% কমে গিয়েছিল। ধীরে ধীরে সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠছে ইংল্যান্ড। এমনটাই মনে করছে হিথ্রো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। টিকা নেওয়ার হার বেড়ে যাওয়া এবং করোনা সংক্রমণের হার কমে যাওয়ায় দেশটি গত জুন মাসে সব কিছু খুলে দেওয়া হয়। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে গত বছরের চেয়ে বেশি। তবে সব এয়ারলাইনস সংস্থা যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মানা ও ভ্যাকসিনেশন যাচাই করে সার্ভিস দিচ্ছে।

 

জার্মানির বিমানবন্দরে যাত্রীদের পরীক্ষার ব্যবস্থা

জার্মানি এতকাল করোনাভাইরাসের ধাক্কা মোটামুটি ভালোভাবে সামলে নিয়েছে। অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় সে দেশে জনজীবন অপেক্ষাকৃত স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। জার্মানির ফেডারেল ও রাজ্য স্তরের স্বাস্থ্যমন্ত্রীরা বিমানবন্দরে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে আসা যাত্রীদের করোনা পরীক্ষা চালু করতে চলেছেন। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো থেকে জার্মানিতে আসা যাত্রীদের নিজস্ব উদ্যোগে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয়। কিন্তু সেই পদক্ষেপ বাস্তবে কার্যকর করা বেশ কঠিন হচ্ছে। রবার্ট কখ ইনস্টিটিউট এই মুহুর্তে বেশির ভাগ দেশকেই ‘হাই রিস্ক’ পর্যায়ে রেখেছে। ফ্রান্স, স্পেন, গ্রিসসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশির ভাগ দেশকে ‘লো রিস্ক’ বা কম ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী সেখান থেকে আসা মানুষকে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করাতে হবে না। তবে সব যাত্রীকে বিমানবন্দর থেকে বেরোনোর আগে এভাবেই মেপে নেওয়া হচ্ছে শরীরের উত্তাপ। থার্মাল স্ক্যানে তাপমাত্রা বেশি এলে যাত্রীদের পাঠানো হচ্ছে অন্যান্য পরীক্ষায়।

 

নেদারল্যান্ডস এয়ার তাদের সার্ভিস অব্যাহত রেখেছে

টিকা নেওয়ার হার বেড়ে যাওয়া এবং করোনা সংক্রমণের হার কমে যাওয়ায় নেদারল্যান্ডসে গত জুন মাসের শেষে সব কিছু খুলে দেওয়া হয়। অনেকেই মাস্ক পরা ছেড়ে দেন। তরুণদের বাইরে যেতে উৎসাহিত করা হয়। দুঃখ প্রকাশ করেছেন নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রাটে। বিধিনিষেধ শিথিলের পরেই নেদারল্যান্ডসে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করে। ডিসেম্বরের পর থেকে করোনায় সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ সংক্রমিত হন। তবে হাসপাতালে ভর্তি করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়েনি। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির বিমান পরিষেবা আগের তুলনায় বেশি। গত বছর দেশটির বিমান যাত্রী ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গিয়েছিল। ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের ছড়াছড়ির মধ্যেও বিমানবন্দরগুলো কঠোর সুরক্ষা বিধি মেনে ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত রেখেছে।

 

ইতালির বিমানবন্দরগুলোয় বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন

করোনাভাইরাস মহামারীতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ইতালি। গত বছর করোনায় মারাত্মভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল দেশটির বিমান পরিষেবা সংস্থা। অনেকটা বিশ্ব থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিল দেশটি। ইতালি সরকার কভিড-১৯ কমিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়। বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করে। তবে সেই অচলাবস্থা বদলালেও বদলায়নি বিদেশি নাগরিকদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন। টিকা নিশ্চিতের পাশাপাশি যাত্রীদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতের ব্যবস্থা করছে দেশটির এয়ারলাইনস পরিষেবা সংস্থাগুলো। গত বছর দেশটির আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিষেবা ৬০ শতাংশে নেমে এলেও বর্তমানে সেই সংখ্যাটা অনেকাংশে কমেছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

 

ফ্লাইট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ফ্রান্স

করোনাকালে আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ফ্রান্স জুলাইয়ের শুরুতে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে দেশটির বিমান পরিষেবা সংস্থা। ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশনের তরফে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জুনের ৩০ তারিখ পর্যন্ত সমস্ত আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা বন্ধ থাকবে। গত এয়ারলাইনসগুলো তাদের ফ্লাইট বাতিল ঘোষণার কারণে এয়ারপোর্ট অনেকটা যাত্রীবিহীন ফাঁকা হয়ে পড়েছিল। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর দেশটির এয়ারলাইনসগুলো আগের চেয়ে যাত্রী পরিষেবা বৃদ্ধি করেছে। দেশটির অ্যাভিয়েশন সংস্থা জানায়, করোনাকালের অচলাবস্থা কাটিয়ে যাত্রীর সংখ্যা অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবুও বিমান পরিষেবায় যাত্রী সংখ্যা এখনো ৪০ শতাংশ কম রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকা অঞ্চল

সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে সংক্রমণের হার এখনো কম। গত জানুয়ারি মাসে দেশটিতে করোনার দৈনিক সংক্রমণের হার ছিল সর্বোচ্চ। তবে গত দুই সপ্তাহে সংক্রমণের এই হার দ্বিগুণ হয়েছে। টিকাদানের হার কম এমন এলাকাগুলোয় ডেল্টা ধরনের সংক্রমণ বেশি ছড়িয়ে পড়ছে। তবে মৃত্যুর হার খুব বেশি বাড়েনি। দেশটির সরকার ইতিমধ্যে ভ্রমণকারী কিছু দেশের নাগরিকের প্রবেশে সতর্কতা জারি করেছে। মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন এমন যাত্রীদের ১৩টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির বিবেচনায় দেশটি অন্য দেশগুলোর চেয়ে অনেক এগিয়ে। যার প্রভাব দেশটির বিমান সংস্থা ব্যাপক লক্ষ্য করা গেছে। মার্কিন বিমান পরিবহন সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইনস জানায়, গত বছর এয়ারলাইনসগুলো ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল। হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কম নয়। ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ২ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ডেল্টার  শেয়ার ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারলাইনস সংস্থা জানায়, করোনাকালে এয়ার সংস্থাগুলোর যাত্রীর সংখ্যা কমলেও দেশজুড়ে করোনার টিকা নিশ্চিতের পর যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। তবে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে চলছে দেশটির এয়ারলাইনস সংস্থা।

 

ব্রাজিলের বিমান সার্ভিস এখনো স্বাভাবিক হয়নি

বিশ্বের যে কয়েকটি দেশ করোনার ভয়াবহতা টের পেয়েছে তার মধ্যে ব্রাজিল অন্যতম। সংক্রমণ আর মৃত্যুর ঊর্ধ্বমুখী সময়ে দেশজুড়ে লকডাউন জারি করা না হলেও বহির্বিশ্বের সঙ্গে দেশটির যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল খুবই সীমিত। তবে বর্তমানে দেশটিতে করোনার টিকা প্রয়োগ আর সংক্রমণ কমে আসার ফলে ব্রাজিলের বিমানবন্দরগুলোয় বেড়েছে যাত্রীদের চাপ। সম্প্রতি ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট কিছুটা চাপে ফেললেও থেমে থাকেনি। এখন পর্যন্ত দেশটি তাদের কোনো বিমানবন্দর অভ্যন্তরীণ এবং বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করেনি। বিশ্ব মহামারীর এমন মুহুর্তে সাও পাওলো বিমানবন্দরে যাত্রীরা করোনা আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করছেন। দেশটির বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির বিমানবন্দরগুলোয় যাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে।

 

বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা অস্ট্রেলিয়া এয়ারের

গত বছরের বেশির ভাগ সময় অস্ট্রেলীয়রা অনেকটা স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করেছেন। সে সময় বিধিনিষেধ ছিল সীমিত পর্যায়ে। এমনকি মাস্ক পরাও বাধ্যতামূলক ছিল না। তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দেশটির সরকার আবার লকডাউনের পরিকল্পনা করেছে। যেমন গত জানুয়ারি মাসে মাত্র একজনের করোনা শনাক্ত হওয়ার পরে পাঁচ দিনের শাটডাউন জারি করা হয়। জুনের মাঝামাঝি সময়ে ডেল্টা ধরনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় সিডনিতে লকডাউন জারি করা হয়। চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত এই লকডাউন জারি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির বিমান এয়ারলাইনস সংস্থাগুলো গত বছরের ক্ষয়ক্ষতি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এরই মধ্যে দেশটির বিমানবন্দরগুলোয় নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চলছে নতুন গুঞ্জন। অনেক এয়ার সংস্থা ইতিমধ্যে সীমিত করে নিচ্ছে তাদের ফ্লাইট শিডিউল। অনেকের দাবি, এভিয়েশন শিল্পে করোনাভাইরাস শুধু বিপর্যয় নয়, ‘মহাবিপর্যয়’ ডেকে এনেছে। এই অবস্থায় টিকে থাকাই কঠিন হয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট ৬০ শতাংশের বেশি কমে গেছে সেখানে। পাশাপাশি দেশটির সরকার প্রায় ১০ লাখ নাগরিককে অর্ধেক বিমান ভাড়ায় দেশের অভ্যন্তরের বিভিন্ন অবকাশ কেন্দ্র ভ্রমণের সুযোগ করে দিয়েছে।

 

এয়ার কানাডায় ধস, এখনো চলছে কর্মী ছাঁটাই

করোনা মহামারীর কারণে সারা বিশ্বের মতো কানাডাতেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এয়ারলাইনস। সেজন্য বাধ্য হয়ে এয়ার কানাডার যাত্রীর পরিমাণ ৯০ ভাগ হ্রাস পেয়েছে, যা এই খাতে নিয়োজিত শত শত পাইলট এবং টেকনিশিয়ানের চাকরির ক্ষেত্রে আঘাত হেনেছে। ইতিমধ্যে পরিচালনা কার্যক্রম ছোট করে আনার পাশাপাশি ১ হাজার ৭০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে এয়ার কানাডা। অন্যদিকে যেসব যাত্রীর ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে তাদের অর্থ ফেরত দিলে কানাডার বিমান সংস্থাকে আর্থিকভাবে সহায়তা দেবে ফেডারেল সরকার- এমন ঘোষণার কথা বলা হয়েছে গত বছরের নভেম্বরে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২১ সালের প্রথম প্রান্তিকে তাদের সেবা কার্যক্রম ২৫ শতাংশ হ্রাস পাবে। এর ফলে এয়ার কানাডার এক্সপ্রেস ক্যারিয়ার বিভাগ থেকেও আরও ২০০ কর্মীকে বিদায় নিতে হবে। দেশটির সরকার অভ্যন্তরীণ বিমান পরিষেবাও সীমিত করে এনেছে। এর পরিবর্তে স্থায়ী বাসিন্দা বা যাত্রীর স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য স্থল, রেল ও সমুদ্রপথে কানাডায় প্রবেশ করতে পারবে।