১১ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১৬:৩৭

গ্রীষ্মকালীন পিঁয়াজ চাষে লাভবান কৃষক

দিনাজপুর প্রতিনিধি

গ্রীষ্মকালীন পিঁয়াজ চাষে লাভবান কৃষক

মিশর, চীন কিংবা ভারত থেকে আমদানি করা নয়, এখন লাল বা গাঢ় খয়েরি লাল রঙের বড় আকারের পিঁয়াজ দিনাজপুরে চাষ হচ্ছে। এসব বড় আকারের গ্রীষ্মকালীন পিঁয়াজ এখন চিরিরবন্দরসহ বিভিন্ন উপজেলায় চাষ হচ্ছে। চাহিদা থাকায় এই গ্রীষ্মকালীন পিঁয়াজ চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্রীষ্মকালীন অর্থাৎ খরিপ মৌসুমে পিঁয়াজ চাষের কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়ে এবার কৃষকদের সাফল্য এসেছে। এ পিঁয়াজ চাষে কৃষকরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

পিঁয়াজের সংকট কমাতে সম্ভাবনাময় নাসিক এন-৫৩ জাত চাষে কৃষি বিভাগ সব ধরনের সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করছে।

এই পিঁয়াজ চাষে অনেক কৃষকের ভাগ্যের চাকা ঘুরছে। পিঁয়াজের ঘাটতি পূরণে গ্রীষ্মকালীন পিঁয়াজ চাষে ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে চলেছেন চিরিরবন্দরের নশরতপুর ইউপির দক্ষিণ নশরতপুর গ্রামের জগদিশ মেম্বারপাড়ার কৃষক গণেশ চন্দ্র রায়।

কৃষক গণেশ চন্দ্র রায় কৃষিপ্রণোদনা কর্মসূচির নতুন উদ্ভাবিত নাসিক এন-৫৩ জাতের পিঁয়াজ চাষ করে হয়েছেন সফল। তিনি মাত্র ১৭ শতক জমিতে নাসিক এন-৫৩ জাতের গ্রীষ্মকালীন পিঁয়াজ চাষ করেছেন। তার ক্ষেতে উৎপাদিত প্রতিটি পিঁয়াজের ওজন কমপক্ষে ২০০-২৫০ গ্রাম। তার জমিতে উৎপাদিত পিঁয়াজ দেখে অন্যান্য চাষিরাও এ জাতের পিঁয়াজ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

নশরতপুর ইউনিয়নের দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. খাদেমুল ইসলাম বলেন, অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে বাজারে যখন শীতকালীন পিঁয়াজের সরবরাহ কম থাকে, সে সময় নাসিক এন-৫৩ জাতের পিঁয়াজ মানুষের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। জুলাই-আগস্ট মাসে বীজ বপণ করে ২৫-৩০ দিন বয়সের চারা রোপণ করতে হয়। ৯০ দিনের মধ্যেই এ পিঁয়াজ সংগ্রহ করা সম্ভব। প্রথম পর্যায়ে রোপণকৃত পিঁয়াজ ইতিমধ্যেই বাজারে আসতে শুরু করেছে। গাছসহ এ পিঁয়াজ বিক্রি করে চাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।

চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় উৎপাদিত গ্রীষ্মকালীন পিঁয়াজের আকার, স্বাদ, গন্ধ ও পুষ্টিমান অনেক উন্নত। কৃষিপ্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এবছর ১৫০ জন কৃষককে ১ কেজি করে নাসিক এন-৫৩ জাতের গ্রীষ্মকালীন পিঁয়াজের বীজসহ ডেপ, পটাশ সার, পলিথিন ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে।

চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা বলেন, সম্প্রতি আমি নাসিক এন-৫৩ জাতের পিঁয়াজ চাষে উৎপাদন সফলতা দেখেছি। এতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কৃষক খুশি। এ পিঁয়াজ এখনো পুরোপুরি পরিপক্ক হয়নি। পরিপক্ক হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। অপরিপক্ক এসব পিঁয়াজের প্রতিটির গড় ওজন অন্তত ২০০ গ্রাম। তবে পরিপক্ক হলে প্রতিটির ওজন ২৫০ গ্রাম ছাড়িয়ে যাবে। বর্তমান পিঁয়াজের বাজারদর ভালো হওয়ায় আমরা কৃষকদের বিক্রির পরামর্শ দিচ্ছি। পিঁয়াজের সংকট কমাতে সম্ভাবনাময় নাসিক এন-৫৩ জাত চাষে কৃষি বিভাগ সব ধরনের সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করছে।

বিডি প্রতিদিন/এমআই

সর্বশেষ খবর