১৮ জানুয়ারি, ২০২৪ ১৬:২৭

পাহাড়ে রসালো কমলার বাম্পার ফলন

ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি

পাহাড়ে রসালো কমলার বাম্পার ফলন

সাজেক ও খাঁশিয়া। ব্যাপক জনপ্রিয় পাহাড়ে উৎপাদিত এসব নামের কমলা। টসটসে রসালো। খেতে যেমন মজাদার। স্বাদে খুব মিষ্টি। তাই রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলায় স্থানীয়রা গড়ে তুলেছেন এসব কমলার বাগান। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলন্ত ফিকে হলুদ রঙের কমলা দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। আবার এসব কমলা সংগ্রহ করে বিক্রেতারাও নিয়ে আসছে স্থানীয় হাটে। দামে কম। মানে ভালো। তাই নজর কেড়েছেন ক্রেতা বিক্রেতাদের। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব কমলা রপ্তানি করা হয় ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটির জেলার বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি উপজেলা, নানিয়ারচর ও সদর এ ৪টি উপজেলায় এসব কমলার চাষ করা হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে ঢালু জায়গায় প্রতিটি টিলায় কমলার বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। এক একটি টিলায় ২০০ থেকে ৩০০ কমলার গাছ রয়েছে। আবার অনেকে নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছে কমলার বাগান। এসব বাগানে এ বছর কমলার ফলন হয়েছে খুব ভালো। এসব উৎপাদিত কমলায় বর্তমানে বিভিন্ন হাট-বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। তাছাড়া দামও কম হওয়ায় চাহিদাও প্রচুর।

রাঙামাটি বনরূপা বাজারের কমলা ব্যবসায়ী সুমন্ত চাকমা বলেন, উৎপাদিত এসব কমলা মিষ্টি ও টসটসে রসালো। স্থানীয় হাট-বাজারে প্রতি ডজন কমলা বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ২৬০ টাকা। ক্রেতাদের চাহিদা রয়েছে। তাই লাভবান হচ্ছেন চাষী ও বিক্রেতারা।

রাঙামাটি কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে রাঙামটি জেলায় কমলার আবাদ হয়েছে ৬৭০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ হাজার ২৬৫ মেট্টিক টন। শুধু নানিয়ারচর উপজেলায় চাষ হয়েছে ১২৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৫০ টন। চাহিদা থাকায় দিনে দিনে এ চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা। জেলার বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি, লংগদু, রাজস্থলী, বরকল উপজেলাসহ বেশকিছু এলাকায়ও কমলা চাষ হয়েছে।

রাঙামাটি নানিয়ারচর উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ক্যান্টিলা চাকমা বলেন, এ বছর কমলা চাষ ভালো হয়েছে। তবে বাগানে আরও পরিচর্যা করা হলে ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে কৃষক বেশি লাভবান হতেন। এছাড়া আবহাওয়াসহ প্রাকৃতিক কারণে কমলা ঝরে পড়ছে। উপজেলার সাবেক্ষ্যং ইউনিয়নের, যাদুখা ছড়া, হরিণহাট ছড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সাড়ে তিনশ থেকে চারশ কমলা চাষি রয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক তপন কুমার পাল বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে কমলা উৎপাদন হলেও নানিয়ারচরে বেশি হচ্ছে। এর অন্যতম কারণ সাবেক্ষ্যংসহ কয়েকটি এলাকায় অনুকূল আবহাওয়া রয়েছে। এ কারণে ধারণা করা হচ্ছে, পার্বত্য অঞ্চলের অন্যান্য স্থান থেকে এ উপজেলায় উৎপাদিত কমলার রং, আকার ও মিষ্টতা আলাদা।

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত

সর্বশেষ খবর