বিবাহবিচ্ছেদের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা, কারণ ও প্রতিকার নিয়ে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার বাগধা কলেজ অ্যান্ড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে এ সভায় সভাপতিত্ব করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ আগৈলঝাড়া শাখার সহ-সভাপতি মো. শাহ আলম রাঢ়ী।
সভায় বক্তব্য রাখেন বাগধা কলেজ অ্যান্ড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান মিয়া, সহঅধ্যাপক মো. আকরাম উদ্দিন খান, মো. বাবুল খান ও কেএম রেজাউল ফেরদৌস রুশো।
এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন শিক্ষার্থী ফাতেমা খানম, ঝর্না খানম, নাদিয়া খানম, সৌরভ খান, নিপা খান, আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাব সভাপতি মো. মাহাবুবুল ইসলাম, উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মো. সাইফুল মৃধা, সাংবাদিক মো. মাহমুদ মোল্লা, বসুন্ধরা শুভসংঘ আগৈলঝাড়া শাখার উপদেষ্টা এসএম ওমর আলী সানি, সহ-সভাপতি আইনজীবী সমীরন রায়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রহিম, সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব খান, অর্থ সম্পাদক আমির হামজা এবং সদস্য নিলীমা কর, শান্তা হালদার ও জিলিয়ান বিশ্বাসসহ অনেকে।
বক্তারা জানান, পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২২ সালে দেশে প্রতি ১০ হাজার মানুষের মধ্যে ১৪ জন বিবাহবিচ্ছেদ করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। বরিশাল বিভাগে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। গত দুই বছরে এখানে নিবন্ধিত বিয়ের তুলনায় বিচ্ছেদের আবেদন অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।
আলোচকরা বলেন, সামাজিক ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, পারিবারিক সম্পর্কের ভাঙন, মাদকাসক্তি, বেকারত্ব এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার বিবাহবিচ্ছেদের অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে। পারিবারিক কলহ, অবিশ্বাস, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব, পরকীয়া সম্পর্ক এবং যৌথ পরিবার ভেঙে যাওয়াও এই সংকটকে তীব্র করছে।
বসুন্ধরা শুভসংঘ আগৈলঝাড়া শাখার উপদেষ্টা এসএম ওমর আলী সানি বলেন, বিবাহবিচ্ছেদের পেছনে শারীরিক অক্ষমতা, অসুস্থতা, যৌতুক, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ ও মাদকাসক্তির মতো বিষয়ও বড় ভূমিকা রাখছে। এসব বিষয় গোপন না করে সচেতনভাবে মোকাবিলা করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, যৌতুকের কারণে নারী নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনা বাড়ছে। বাল্যবিবাহ ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্করা বাস্তবতা না বুঝে বিয়ে করে পরবর্তী সময়ে দাম্পত্য জীবনে ব্যর্থ হয়ে বিবাহবিচ্ছেদের পথে যাচ্ছেন।
সভায় বক্তারা বিবাহবিচ্ছেদ এড়াতে পারিবারিক বোঝাপড়া, সামাজিক মূল্যবোধ জোরদার, শিক্ষা বিস্তার এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে পরিবার ও সমাজকে এ বিষয়ে আরও সচেতন ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।
বিডি-প্রতিদিন/এমই