মোবাইল ফোনের আসক্তি থেকে দূর করে শিশুদের সুস্থ, সৃজনশীল ও আনন্দময় শৈশব গড়ে তুলতে ব্যতিক্রমধর্মী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে সুজানগর উপজেলার মথুরাপুর এলাকায় বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
দিনব্যাপী আয়োজনে শিশুদের অংশগ্রহণে পুরো এলাকা আনন্দমুখর পরিবেশে রুপ নেয়। তাদের হাসি, খেলাধুলার উচ্ছ্বাস আর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা যেন প্রযুক্তিনির্ভর একঘেয়ে সময়ের বিপরীতে এক নির্মল বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের জন্য দুপুরের খাবারের আয়োজন করা হয়। এ আয়োজনে সহযোগিতা করেন সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ।
এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক মরিয়ম নেছা। তিনি বলেন, ‘এই অনুষ্ঠানে না আসলে জানতেই পারতাম না বসুন্ধরা শুভসংঘ এত ভালো ভালো আয়োজন করে। বসুন্ধরা শুভসংঘের জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা। বিশেষ করে বিনামূল্যে স্কুল পরিচালনার মাধ্যমে এলাকার অসহায় ও দরিদ্র শিশুদের লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়া সত্যিই প্রশংসনীয়। তাদের এই মানবিক কর্মকাণ্ড আমাকে অভিভূত করেছে। বসুন্ধরা শুভসংঘ আরও এগিয়ে যাক—এটাই প্রত্যাশা।’
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল খালেক মিয়া। তিনি শিশুদের নৈতিক শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও খেলাধুলার মাধ্যমে বেড়ে ওঠার গুরুত্ব তুলে ধরেন। শিক্ষার পাশাপাশি মানসিক বিকাশে বসুন্ধরা শুভসংঘের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান তিনি।
বসুন্ধরা শুভসংঘের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলী আকবর রাজু,বসুন্ধরা শুভসংঘ পাবনা জেলা শাখার সভাপতি মাহবুবুল আলম ফারুক, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শান্ত, বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলের প্রধান শিক্ষক জেসমিন পারভীন, কালের কণ্ঠ পাবনা জেলা প্রতিনিধি প্রবীর সাহা, পাবনা সদর উপজেলা শাখার সভাপতি ফারহানা আক্তার জেসমিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, বর্তমান সময়ে শিশুদের মধ্যে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সামাজিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে শিশুদের বাস্তব জীবনের আনন্দে ফিরিয়ে আনাই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। আমরা চাই প্রযুক্তির বদলে মাঠে ফিরুক শৈশব।
দিন শেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর প্রেরণায় ভরা এ আয়োজন শিশুদের মনে দীর্ঘদিন ইতিবাচক প্রভাব রাখবে বলে মনে করছেন উপস্থিত অভিভাবকরা।
বিডি প্রতিদিন/কামাল