অস্বচ্ছল নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বগুড়ার আদমদীঘিতে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে তিন মাসব্যাপী সেলাই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার সান্তাহার হাটখোলা এলাকায় নিউ উদয় কিন্ডার গার্টেন স্কুল প্রাঙ্গণে ফিতা কেটে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ আদমদীঘি উপজেলা শাখার উপদেষ্টা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম।
এই প্রশিক্ষণে অসহায়, দুস্থ ও অস্বচ্ছল ২০ জন নারী ও শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছেন। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ সেলাই প্রশিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার ও শনিবার নিয়মিত প্রশিক্ষণ ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা শুভসংঘ আদমদিঘী উপজেলা শাখার সভাপতি আমিনুল ইসলাম সুমনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম শাকিলের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন কালের কণ্ঠের উপজেলা প্রতিনিধি তরিকুল ইসলাম জেন্টু, সহ-সভাপতি আহসান হাবীব তুহিন ও শাহীনা জোয়ারদার, যুগ্ম সম্পাদক আশিকুজ্জামান ছোটন, দপ্তর সম্পাদক রঞ্জন কুমার, কার্যকরী সদস্য মামুন হোসেন, শাকিল হোসেন, ছায়া আক্তার এবং বেডো সমৃদ্ধি কর্মসূচির এইউপিসি শিবনাথ চন্দ্র পালসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
স্বাগত বক্তব্যে সভাপতি আমিনুল ইসলাম সুমন বলেন, অস্বচ্ছল নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতেই এ সেলাই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। তিন মাসব্যাপী এই প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পরিচালিত হবে। প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে একটি করে সেলাই মেশিন প্রদান করা হবে, যাতে তারা ঘরে বসেই আয় করতে পারেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম বলেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের অর্থায়নে বসুন্ধরা শুভসংঘ সামাজিক উন্নয়নে নানামুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় অসচ্ছল নারী ও শিক্ষার্থীদের স্বাবলম্বী করতে এ সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। নারীরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হলে পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
প্রশিক্ষণার্থী সুইটি বেগম জানান, প্রায় অর্ধযুগ আগে তার স্বামী মারা গেছেন। এরপর থেকে আর্থিক সংকটে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। সেলাই প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়ে তিনি নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস পাচ্ছেন। প্রশিক্ষণ শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সান্তাহার শহর প্রেসক্লাবের সভাপতি জিললুর রহমান বলেন, “শুভ কাজে সবার পাশে” এই স্লোগানকে সামনে রেখে বসুন্ধরা শুভসংঘের নেওয়া উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দরিদ্র নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া নারীর প্রকৃত মুক্তি সম্ভব নয়।
বিডি-প্রতিদিন/মাইনুল