ভালোবাসা তখনই পূর্ণতা পায়-যখন তা শুধু দু’জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ছড়িয়ে পড়ে সমাজের প্রতিটি কোণে, বিশেষ করে সেইসব মুখে, যেখানে হাসির সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আর সেই নির্মল ভালোবাসারই এক অনন্য উদাহরণ দেখা গেল গাজীপুরের একটি বস্তিতে।
ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে গাজীপুর বসুন্ধরা শুভসংঘ আয়োজন করে এক ব্যতিক্রমী আনন্দঘন কর্মসূচি। ইট, টিন আর কাঁচা রাস্তার মাঝখানে সেদিন যেন বসেছিল রঙিন শৈশবের মেলা। অর্ধশতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশু পেয়েছিল এমন এক দিন, যা হয়তো তারা দীর্ঘদিন মনে রাখবে।
চারপাশে ছিল না কোনো জাঁকজমকপূর্ণ সাজসজ্জা বা দামী মঞ্চ। তবুও ছিল প্রাণভরে হাসার সুযোগ, একসাথে দৌড়ানোর স্বাধীনতা আর মন খুলে খেলার আনন্দ। বন্দী সময় কাটানো নয়- খোলা মাঠে দৌড়ঝাঁপই ছিল দিনের মূল আকর্ষণ। কেউ পড়ে গিয়ে হেসে উঠছে, কেউ জিতে বন্ধুদের জড়িয়ে ধরছে, কেউ আবার হেরে গিয়ে বলছে-“আরেকবার খেলবো!”
খেলাধুলা শেষে শিশুদের মাঝে বিতরণ করা হয় খাবার। ছোট্ট হাতে খাবারের প্যাকেট নিয়ে তাদের চোখেমুখে যে আনন্দের ঝিলিক-তা যেন পুরো আয়োজনের সার্থকতার সিলমোহর। খেলাধুলা আর খাবারের এই ছোট্ট আয়োজন তাদের জন্য ছিল ভালোবাসা দিয়ে সাজানো এক বড় প্রাপ্তি।
দিনের শেষে বিভিন্ন খেলায় অংশ নেওয়া শিশুদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পুরস্কার পেয়ে হাসিতে ভরে ওঠে কচি মুখ। তাদের কাছে এই পুরস্কার শুধু একটি উপহার নয়- একটি স্বীকৃতি, একটি স্মৃতি, একটি গল্প।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি মো. ইমরান হোসেন বলেন,“ভালোবাসা দিবস শুধু একটি দিনকে কেন্দ্র করে ফুল আর উপহার প্রদান নয়। প্রকৃত ভালোবাসা হলো- সমাজের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের মুখে হাসি ফোটানো। আজকের এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা শিশুদের সঙ্গে সেই ভালোবাসার আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমরা চেয়েছি হাসি আড্ডার ছলে সুন্দর সময় কাটাতে।"
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ যোগ করেন, “ওরাও মানুষ। ওদেরও আছে ভালোবাসা ও বিনোদন পাবার অধিকার। আমাদের সম্মিলিত চেষ্টায় পিছিয়ে পড়া মানুষগুলো পেতে পারে সুন্দর জীবন। সুবিধাবঞ্চিত শিশুরাও যেন আনন্দময় শৈশবের স্বাদ পায়, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই আয়োজন। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে পেরে আমরা নিজেরাও আনন্দিত।”
এ আয়োজন সফল করতে উপস্থিত ছিলেন শুভার্থী তানজিনা ইসলাম জেরিন, ইভা খন্দকার, রাকিবুল ইসলাম আরিফ, জহিরুল ইসলাম, আবু বক্কর, সিয়াম আহমেদ, আমিনুল ইসলাম জয়, সুমাইয়া শিমু, শাকিল আহমেদ ও তুরিন সাবরিন। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সাধারণ দিন পরিণত হয় অসাধারণ স্মৃতিতে।
ভালোবাসার দিনটি তাই শুধু একটি দিবস ছিল না- ছিল ধুলোভরা মাঠে ফুটে ওঠা নির্মল হাসির উৎসব, যেখানে মানবিকতার রঙেই রাঙানো হয়েছিল পুরো আয়োজন।
বিডি-প্রতিদিন/তানিয়া