সমাজের অবহেলিত, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে দেশের অন্যতম স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বসুন্ধরা শুভসংঘ। তারই ধারাবাহিকতায় এবার অসহায় ও দুস্থ ভিক্ষুক খোদেজা বেগমের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সংগঠনটি।
ঢাকার কাফরুলে অসহায় খোদেজা বেগমের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দিয়ে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল নজির স্থাপন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ কাফরুল থানা শাখা।
জানা যায়, খোদেজা বেগম দীর্ঘদিন ধরে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করে আসছিলেন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তার পাশে দাঁড়ানোর মতো নেই কোনো স্বজন, নেই স্থায়ী কোনো উপার্জনের পথ। বাধ্য হয়ে জীবিকার তাগিদে তাকে বেছে নিতে হয়েছে ভিক্ষাবৃত্তি। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে যা পান, তা দিয়েই কোনো রকমে চলে তার জীবন। বয়সের ভারে ন্যুব্জ শরীর, অসুস্থতা আর একাকিত্ব যেন তার জীবনের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে, তার অসহায়ত্বের বিষয়টি জানতে পেরে বসুন্ধরা শুভসংঘ কাফরুল থানা শাখার সদস্যরা দ্রুত তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তার সার্বিক খোঁজ খবর নেন। তার বাস্তব অবস্থা দেখে সংগঠনের সদস্যরা গভীরভাবে মর্মাহত হন এবং তার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে সংগঠনের উদ্যোগে এক মানবিক আয়োজনের মাধ্যমে খোদেজা বেগমের হাতে সম্মানজনকভাবে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় বসুন্ধরা শুভসংঘ কাফরুল থানা শাখার সদস্যরা বলেন, 'বসুন্ধরা শুভসংঘ সবসময় অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বদ্ধপরিকর। আমরা বিশ্বাস করি, সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে কোনো মানুষই অসহায় থাকবে না। খোদেজা বেগমের মতো মানুষদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও আমরা এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবো।'
সহায়তা পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন খোদেজা বেগম। কাঁপা কণ্ঠে তিনি বলেন, 'আমি খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছিলাম। অনেক সময় না খেয়েও থাকতে হয়েছে। আজ বসুন্ধরা শুভসংঘ আমার পাশে দাঁড়িয়েছে, আমাকে সাহায্য করেছে, এটা আমার জীবনের বড় পাওয়া।'
এ সময় উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা বসুন্ধরা শুভসংঘের এ উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান এবং ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা বলেন, সমাজের অসহায় মানুষের পাশে এভাবে দাঁড়ানো সত্যিই প্রশংসনীয়। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং অন্যদেরও এ ধরনের ভালো কাজে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করে।
বিডি-প্রতিদিন/তানিয়া