হালুয়াঘাটে সাহিত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে বিকশিত করার প্রত্যয়ে প্রাণবন্ত সাহিত্য আড্ডার আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ হালুয়াঘাট উপজেলা শাখা। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সামনে রেখে একুশের চেতনায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সদস্য, শুভানুধ্যায়ী ও স্থানীয় সাহিত্য প্রেমীরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই একুশের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। নীরবতার সেই মুহূর্তে যেন ফিরে আসে ভাষার জন্য আত্মদানকারী বীর সন্তানের স্মৃতি, আত্মত্যাগ আর অমর চেতনার প্রতিধ্বনি।
আলোচনার মূল আকর্ষণ ছিল প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন-এর কালজয়ী উপন্যাস হাঙর নদী গ্রেনেড নিয়ে পাঠ ও বিশ্লেষণ। উপন্যাসটির বিভিন্ন অংশ আবৃত্তি ও পর্যালোচনার মাধ্যমে বক্তারা তুলে ধরেন ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বাঙালির সংগ্রামের ধারাবাহিকতা।
তারা বলেন, এই উপন্যাস কেবল একটি সাহিত্যকর্ম নয়-এটি বাঙালির আত্মপরিচয়, ত্যাগ, সাহস ও মানবিক শক্তির প্রতিচ্ছবি।
বক্তারা উল্লেখ করেন, ভাষার মর্যাদা রক্ষার সংগ্রাম কীভাবে স্বাধীনতার চেতনায় রূপ নিয়েছিল, লেখক তা গভীর মানবিকতায় ও শক্তিশালী বর্ণনায় উপস্থাপন করেছেন। উপন্যাসের চরিত্রগুলোর সাহস, মমতা ও দেশপ্রেম তরুণ প্রজন্মকে একুশের আদর্শে উদ্বুদ্ধ করে এবং ইতিহাসের সঙ্গে আবেগের এক গভীর সংযোগ স্থাপন করে।
মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশ নিয়ে সংগঠনের বন্ধুরা বলেন, ভাষা আন্দোলনের চেতনা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। মাতৃভাষার শুদ্ধ চর্চা, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একুশের আদর্শ ধারণ করা সম্ভব-এটাই শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হালুয়াঘাট উপজেলা শাখার উপদেষ্টা ও হালুয়াঘাট আদর্শ মহিলা কলেজের শিক্ষক সুলতান আহমেদ। তিনি বলেন, “সাহিত্য মানুষকে মননশীল করে তোলে এবং নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে। তরুণ প্রজন্মকে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সাহিত্য আড্ডা শুধু বিনোদনের নয়, এটি জ্ঞান ও চিন্তার বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। নিয়মিত এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বাড়াবে এবং সমাজকে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।”
বসুন্ধরা শুভসংঘ হালুয়াঘাট উপজেলা শাখার উপদেষ্টা সৈয়দ নাফিউল হাসান মুবিন তাঁর বক্তব্যে বলেন,“সাহিত্য আমাদের আত্মপরিচয় গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধের মাধ্যমে আমরা সমাজের বাস্তবতা, স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে উপলব্ধি করতে পারি। বসুন্ধরা শুভসংঘের এ ধরনের উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। তরুণদের মাঝে সাহিত্যচর্চার আগ্রহ সৃষ্টি করতে নিয়মিত আড্ডা ও পাঠচক্র আয়োজন করা প্রয়োজন।”
আজকের সাহিত্য আড্ডায় অংশ নেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফাকরিয়া সিথী, সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল-মামুন, রবিউল হাসান ও আল শাহরিয়ার বিবেক, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ইসলাম তামিম, নারী বিষয়ক সম্পাদক ঊর্বশী, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক পুলি আক্তার, প্রচার সম্পাদক ওহেদুজ্জামান সাদমান, সহ-প্রচার সম্পাদক সুজিতসহ সংগঠনের অন্যান্য কার্যকরী সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীরা।
বিডি-প্রতিদিন/তানিয়া