বাঙালির হৃদয়ে চির অম্লান ভাষা শহীদদের স্মৃতি, ত্যাগ ও গৌরবের ইতিহাস। সেই আবেগ ও ভালোবাসা থেকেই ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে উদ্যোগ নিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। রূপগঞ্জ থানা শাখার তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে রূপগঞ্জের তারাবো বিশ্বরোড এলাকার শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত হয়েছে পরিচ্ছন্নতা ও শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি।
সকালের সোনালী রোদ গায়ে লাগার সঙ্গে সঙ্গেই একদল তরুণ পরিচ্ছন্নতার সরঞ্জাম নিয়ে হাজির হয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে। কারও হাতে ময়লা পরিষ্কারের ব্যাগ, কারও হাতে পানি ছিটানোর পাত্র—সবাই যেন একটাই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, ভাষা শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই পবিত্র স্থানটিকে নতুন করে সম্মানের আসনে বসানো।
আয়োজকরা জানান, শহীদ মিনার শুধু একটি স্থাপনা নয়; এটি বাঙালির আত্মপরিচয়, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের প্রতীক। ভাষার মাসে এই প্রাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা মানে শুধু একটি জায়গা পরিষ্কার করা নয়, বরং শহীদদের প্রতি ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ।
বসুন্ধরা শুভসংঘ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মানবকল্যাণ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও যুবসমাজের উন্নয়নে কাজ করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয় ঢাকা মহানগর সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মিলটনের দিকনির্দেশনায় এবং রূপগঞ্জ থানা শাখার সভাপতি মো. আহসানুল হক ও সাধারণ সম্পাদক রিমন রহমানের নেতৃত্বে।
আয়োজকদের ভাষ্য, ‘ভাষার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের প্রতি সম্মান জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। শহীদ মিনার পরিচ্ছন্ন রাখা মানে আমাদের ইতিহাস ও আত্মপরিচয়কে সম্মান করা। তরুণদের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে—দেশ, ভাষা ও ইতিহাসের প্রতি নতুন প্রজন্মের ভালোবাসা এখনও অটুট।’
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন আশ্রাফুল, সিয়াম, নিলয়, শিহাব, সূজন, ইসমাঈল, রবিন, আলামিন, জাবেদ, নাজমুলসহ এলাকার আরও অনেক তরুণ। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কিছুক্ষণের মধ্যেই শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে ঝকঝকে পরিষ্কার, পরিপাটি ও শ্রদ্ধাময়।
স্থানীয় বাসিন্দারাও এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, তরুণদের এমন দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়বদ্ধতা অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে। ভাষার মাসে এই ধরনের কর্মসূচি শুধু পরিচ্ছন্নতা নয়, বরং নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইতিহাসচেতনা ও মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলে।
ভাষা শহীদদের প্রতি অগাধ ভালোবাসা, সম্মান ও কৃতজ্ঞতা থেকে আয়োজিত এই কর্মসূচি যেন এক বার্তা দিয়ে গেল—শ্রদ্ধা শুধু ফুলে নয়, কাজে-ও প্রকাশ পায়। শহীদদের স্মৃতির প্রতি ভালোবাসা হৃদয়ে ধারণ করে তরুণদের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
বিডি-প্রতিদিন/মাইনুল