ইট-পাথরের গাঁথুনি নয়—এ আমাদের আত্মপরিচয়ের স্তম্ভ। ভাষা শহীদদের অমর স্মৃতির প্রতীক শহীদ মিনারকে ঘিরে বাঙালির আবেগ, গর্ব ও ভালোবাসা চিরন্তন। আসন্ন মহান একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সামনে রেখে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনার পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করলো বসুন্ধরা শুভসংঘ দিনাজপুর সরকারি কলেজ শাখা।
ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে দিনাজপুর সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থিত শহীদ মিনারে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা। সকাল থেকেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সরঞ্জাম হাতে নিয়ে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে হাজির হন শুভসংঘের বন্ধুরা। ঝাড়ু, ব্রাশ ও পানি দিয়ে ধুয়ে-মুছে পরিপাটি করে তোলা হয় পুরো এলাকা। সবার চোখে-মুখে ছিল একটাই লক্ষ্য—ভাষা শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই পবিত্র স্থানকে নতুন করে সম্মানের আসনে প্রতিষ্ঠিত করা।
পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান। তিনি শিক্ষার্থীদের এমন উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘খুব সুন্দর একটি উদ্যোগ। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই ধরনের কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মাঝে দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেম জাগ্রত করে। বসুন্ধরা শুভসংঘকে আন্তরিক ধন্যবাদ।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা মো. দেলোয়ার হোসেন এবং ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শেখ মাহতাবুল হক।
কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বসুন্ধরা শুভসংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াছির আরাফাত রাফি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি অরুপ কুমার রায়, সহ-সভাপতি শাহারিয়ার কবির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুন নাহার মুক্তা ও সোহাবুর রহমান, ইভেন্ট সম্পাদক অপূর্ব রায়, সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক রণিতা রায় পূর্ণিমা, সমাজকল্যাণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান এবং কার্যকরী সদস্য শিখা রাণী রায়সহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
উল্লেখ্য, মহান ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে তরুণ সমাজের মাঝে দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ ও সাংস্কৃতিক সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে বসুন্ধরা শুভসংঘ নিয়মিত বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মসূচি পালন করে আসছে। শহীদ মিনার পরিচ্ছন্নতার এই উদ্যোগও তারই ধারাবাহিকতা—যেখানে সেবা, শ্রদ্ধা ও সচেতনতার এক অনন্য সংমিশ্রণ দেখা যায়।
ভাষা শহীদদের রক্তে রাঙানো এই ইতিহাস শুধু স্মরণেই নয়, কর্মের মধ্য দিয়েই বাঁচিয়ে রাখতে চায় শুভসংঘের তরুণরা।
বিডি-প্রতিদিন/মাইনুল