ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি, যা স্মরণ করায় ৫২'র ভাষা আন্দোলন। বাতাসে যেন রক্তলাল রাজপথের গন্ধ। মনে ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগ ও মাতৃভাষার প্রতি দায়বদ্ধতা। চারিদিকে ব্যানার, পোস্টার, স্লোগান, আবৃত্তি আর ভিন্নধর্মী সব স্মৃতিচারণ। বসন্তের বিকেলে ভাষার শিকড়ে ফেরার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। ভাষার মাসকে স্মরণীয় করতে বাংলা বর্ণমালা শুদ্ধ উচ্চারণের প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে এ আয়োজন করা হয়। কবি অতুল প্রসাদ সেনের গান 'মোদের গরব মোদের আশা; আ-মরি বাংলা ভাষা' লেখা একটি ব্যানারে সাজানো হয় মঞ্চটি। ধানের শুকনো খড়ের উপর লাগানো হয় ককশিটের তৈরি বাংলা বর্ণগুলো। রঙিন এই বর্ণগুলো যেন ভাষা আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। একইসঙ্গে বাংলা ভাষা এবং বাঙালি সংস্কৃতি ও এতিহ্য ফুটিয়ে তুলেছে।
বসুন্ধরা শুভসংঘ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মো. জুনায়েত শেখ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের অতিথি হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোছা. শামীম আরা, ইলামিক স্টাডিজ বিভগের অধ্যাপক মুহাম্মদ কামরুল ইসলাম এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদের সাধারণ সম্পাদক শিউলি আক্তার উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনা করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ জবি শাখার সদস্য সামিয়া জামান এবং জিহাদ জিসান। এসময় আলী কাজী, তৌফিক হোসেন, ইসমাম আহমেদ, শাহিনুর আলম শিহাব, রাকিবুল ইসলাম রিফাত, আজসান অঙ্কুর, সাবরিনা আজাদসহ সংগঠনটির অন্যান্য সদস্য এবং অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিযোগিতায় আত্মবিশ্বাসের সাথে বর্ণগুলো উচ্চারণ করেছেন প্রতিযোগীরা। অনেকেই সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারেননি। তবে তাদের মধ্যে উচ্চারণ প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান, দ্বিতীয় ইতিহাস বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের সামসুর নাহার মুক্তা এবং তৃতীয় হয়েছেন বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বুশরা আক্তার।
বিশিষ্ট বাঙালি ছড়াকার, কবি ও সাহিত্যিক ভবানীপ্রসাদ মজুমদারের "জানেন দাদা আমার ছেলের বাংলাটা ঠিক আসে না" কবিতার লাইন পাঠ করেন জবি আবৃত্তি সংসদের সাধারণ সম্পাদক শিউলি আক্তার। তিনি বলেন, বাংলা আমাদের মায়ের ভাষা আমরা এটা খুব সুন্দর করে শেখার চেষ্টা করবো। অনেকের আঞ্চলিকতার টান থাকে, সেটা মুখ্য নয়। সুন্দর বাংলাটা শেখা মুখ্য।
শিক্ষার্থীদের শুদ্ধ বাংলা উচ্চারণে অনুপ্রাণিত এবং উৎসাহিত করতে এমন আয়োজন প্রয়োজন বলেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমাদের বাংলা ভাষা চর্চার যে একেবারে প্রাথমিক কাজ হচ্ছে বর্ণমালা শেখা। এখানে এসে বলার সাহস অনেকের নেই। যারা বলেছেন, তাদেরকে ধন্যবাদ। আশা করি, সবাই এই অনুষ্ঠানে অনুপ্রাণিত হয়েই এসেছেন এবং বর্ণমালা উচ্চারণ করেছেন। 'বসুন্ধরা শুভসংঘ'কে এ ধরনের সুন্দর আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
‘আমরা বাংলাটাকে হারিয়ে ফেলছি। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, শুধু ভাষার মাসেই বাংলা ভাষাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখি, বাকি মাসগুলোতে দেখি না। সারাবছর আমরা যে কিছু করি না তার প্রমাণটা হচ্ছে, এই যে আমরা বর্ণমালাগুলো সঠিক করে বলতে পারিনা।যথাযথভাবে উচ্চারণ করাটা আমাদের শিখতে হবে। আমরা আঞ্চলিকতা ঝেড়ে ফেলবো, সবাই শুদ্ধ বাংলায় কথা বলবো’, বলেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শামীম আরা।
তিনি আরও বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে যারা উপস্থিত হয়েছেন, সবাইকে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা জানাই। বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় আমাদের একযোগে কাজ করতে হবে।
জবি শাখা বসুন্ধরা শুভসংঘের সভাপতি জুনায়েত শেখ বলেন, আমরা বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম করে থাকি। সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত করার প্রচেষ্টা আমাদের রয়েছে। গতবছরও ভাষার মাস উপলক্ষ্যে মায়ের ভাষায় কথা বলা নিয়ে দুই মিনিটের ভিডিও বার্তা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। এ বছর ভিন্নধর্মী বর্ণমালা উচ্চারণ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে, যা সকলকে বাংলা ভাষা শেখার ও শুদ্ধ বাংলা বলতে উৎসাহিত করবে বলে আমরা মনে করি।
বিডি-প্রতিদিন/মাইনুল