পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্যকে ধারণ করে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ছিন্নমূল ও শ্রমজীবী মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। মঙ্গলবার বসুন্ধরা শুভসংঘ মোহাম্মদপুর থানা শাখার উদ্যোগে ছিন্নমূল ও শ্রমজীবী মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
রমজান মাস মুসলমানদের জন্য সংযম, ত্যাগ, ধৈর্য ও সহমর্মিতার মাস। এই মাসে ধনী-গরিব ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয় ইসলাম। সেই মানবিক চেতনা থেকেই সমাজের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে বসুন্ধরা শুভসংঘ মোহাম্মদপুর থানা শাখা এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বসুন্ধরা শুভসংঘের এই মানবিক কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়ে ঐতিহ্যবাহী খান ক্যাটারিং বসুন্ধরা শুভসংঘের সাথে যুক্ত ছিলো।
বসুন্ধরা শুভসংঘের ইফতার বিতরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ছিন্নমূল মানুষ, রিকশাচালক, দিনমজুর, শ্রমজীবী মানুষ, পথচারী ও অসহায়দের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ মোহাম্মদপুর থানা শাখার আহ্বায়ক মো. এমরান খান, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইয়াসিন, সদস্য সালমান সুফিয়ান, জাকির আহম্মেদ, মো. রাব্বি, মো. সাব্বির সহ বসুন্ধরা শুভসংঘের অন্যান্য সদস্যরা।
বসুন্ধরা শুভসংঘ মোহাম্মদপুর থানা শাখার আহ্বায়ক মো. এমরান খান বলেন, 'সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের পাশে দাঁড়ানোই বসুন্ধরা শুভসংঘের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারা আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।'
তিনি আরও বলেন, 'প্রতিদিন অনেক মানুষ কঠোর পরিশ্রম করেও ঠিকমতো ইফতার জোগাড় করতে পারেন না। এমন মানুষদের কথা চিন্তা করেই বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে ইফতার বিতরণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।'
বসুন্ধরা শুভসংঘ মোহাম্মদপুর থানা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইয়াসিন বলেন, ‘শুভ কাজে, সবার পাশে’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বসুন্ধরা শুভসংঘ সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বদ্ধপরিকর। সমাজের প্রতিটি মানুষ যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে একটি মানবিক ও সহমর্মিতাপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।'
ইফতার সামগ্রী পেয়ে অনেক ছিন্নমূল ও শ্রমজীবী মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা বলেন, 'সারাদিন কঠোর পরিশ্রমের পর অনেক সময় ঠিকমতো ইফতার করার সুযোগ হয় না। এমন সময় কেউ যদি পাশে এসে দাঁড়ায়, তাহলে তা সত্যিই অনেক বড় সহায়তা হয়ে দাঁড়ায়।'
স্থানীয়রা জানান, 'এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা ও মানবিকতার চেতনা জাগিয়ে তোলে। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও বসুন্ধরা শুভসংঘ এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে এবং সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবে।'
বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা জানান, 'শুধু রমজান মাসেই নয়, বছরের বিভিন্ন সময়েও তারা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। ভবিষ্যতেও আরও বড় পরিসরে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তারা জানান।'
এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিডি-প্রতিদিন/তানিয়া