মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার আব্দুর রশিদের হাট এলাকায় অবস্থিত বসুন্ধরা শুভসংঘ পাঠাগার এখন জ্ঞানচর্চা ও সামাজিক সচেতনতার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। নিয়মিত বইপাঠের মাধ্যমে এখানে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজেদের জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করছেন।
পাঠাগারটিতে সাহিত্য, শিশুতোষ, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও ইসলামিকসহ বিভিন্ন ধরনের বইয়ের সমৃদ্ধ সংগ্রহ রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে দৈনিক পত্রিকা পাঠের সুযোগ। ফলে মোবাইল আসক্তি থেকে বেরিয়ে এসে বইমুখী হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। বিশেষ করে আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে পাঠাগারটি ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে প্রশংসা করেছেন।
সোমবার বিকেলে পাঠাগারের উদ্যোগে পাঠের আসর ও মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পাঠাগারের প্রয়োজনীয়তা, বইপাঠে অংশগ্রহণ এবং ব্যক্তিজীবনে এর ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একইসঙ্গে পবিত্র কোরআন পাঠের গুরুত্ব, ফজিলত এবং তা জীবনে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, “ওই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে নিজে কোরআন শিক্ষা করেছে এবং অন্যকে শিক্ষা দিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, কোরআন কেবল তিলাওয়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর শিক্ষাকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করা জরুরি।
অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ সাভার উপজেলা শাখার সভাপতি ও শিবচর উপজেলা শাখার সম্মানিত উপদেষ্টা অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি পবিত্র কোরআনের একটি অক্ষর পাঠ করবে, সে দশটি নেকি লাভ করবে।” তিনি সবাইকে নিয়মিত কোরআন পাঠ ও তা অনুধাবনের আহ্বান জানান।
এ সময় অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি নেতা আবুল হোসেন ব্যাপারী, স্থানীয় মসজিদের ইমাম, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ইসলামী চিন্তাবিদ, তরুণ সমাজকর্মী ও শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন মো. ফারুক হোসেন, মো. শামসুল ইসলাম চৌকিদার, হাবিব রহমান, আমির হামজা, মৃদুল, সোয়াদ, আদরসহ এলাকার তরুণরা। তারা মনোযোগ সহকারে আলোচনা শোনেন এবং কোরআনের শিক্ষাকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আয়োজকরা এ ধরনের পাঠচক্র ও মুক্ত আলোচনা ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও জ্ঞানচর্চা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
বিডি-প্রতিদিন/তানিয়া