শিরোনাম
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল, ২০১৯ ১২:৩৭
আপডেট : ১৫ এপ্রিল, ২০১৯ ১৬:৪৯

রাবি শিক্ষক লিলন হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জন খালাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রাবি শিক্ষক লিলন হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জন খালাস
এ কে এম শফিউল ইসলাম লিলন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. একেএম শফিউল ইসলাম লিলন হত্যা মামলার রায়ে তিনজনকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আবদুস সামাদ পিন্টু, পবা উপজেলার কাটাখালী পৌর যুবদলের নেতা আরিফুল ইসলাম মানিক, সবুজ শেখ। 

সোমবার বেলা ১১টায় রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক অনুপ কুমার এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মামলার বাকি ৮ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
 
ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট এন্তাজুল হক বাবু জানান, মামলায় মোট ৩৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। গত ১৩ মার্চ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় তিনি আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছিলেন। আসামিদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট একরামুল হক, মিজানুল ইসলাম, আবু বাক্কার, রইসুল ইসলাম, আব্দুল মালেক রানা প্রমুখ।

লালন ভক্ত ড. শফিউল ইসলাম মুক্তমনা ও প্রগতিশীল আদর্শের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত ছিলেন। ২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর বিকালে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন চৌদ্দপাই এলাকায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পরের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মুহাম্মদ এন্তাজুল হক অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মতিহার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ড. শফিউল খুনের ৫ ঘণ্টার মাথায় ফেসবুকে একটি পাতা খুলে দায় স্বীকার করে ‘আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ-২’ নামে একটি জঙ্গি সংগঠন। তাই উগ্রবাদী এই সংগঠনটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছিল। তবে তদন্তে বেরিয়ে আসে ব্যক্তিগত কোন্দলের জেরেই খুন হন বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক। আর এই কোন্দল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসরিন আখতার রেশমার সঙ্গে।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ২৩ নভেম্বর প্রথমেই রেশমার স্বামী রাবি ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি আবদুস সামাদ পিন্টুসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে রেশমাকেও গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে রেশমা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন। পরবর্তীতে রাজশাহী মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) তৎকালীন পরিদর্শক রেজাউস সাদিক ১১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

বিডি-প্রতিদিন/১৫ এপ্রিল, ২০১৯/মাহবুব


আপনার মন্তব্য