শিরোনাম
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল, ২০১৯ ১৬:৪৯
আপডেট : ২৬ এপ্রিল, ২০১৯ ১৬:৫২

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে অনশনের তৃতীয় দিন, অসুস্থ ১৪

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা চায় শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে অনশনের তৃতীয় দিন, অসুস্থ ১৪

উপাচার্য অপসারণের একদফা দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশনের তৃতীয় দিন অতিবাহিত হয়েছে। শুক্রবার তৃতীয় দিন দুপুর পর্যন্ত অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকসহ ৪ জন শিক্ষক এবং ১০ জন শিক্ষার্থী। তাদের শের-ই বাংলা মেডিকেল এবং বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষক সমিতির দুইজন সদস্য প্রাথমিক চিকিৎসায় কিছুটা সুস্থ হয়ে ফের অনশনে যোগ দিয়েছেন। 

এদিকে দুপুরে শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙ্গাতে গিয়েছিলেন সিন্ডিকেট কমিটির সদস্য ও বরিশাল শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুস। কিন্তু শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের অপসারণ সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ঘোষণা ছাড়া অনশন ভঙ্গ করবেন না বলে তাকে জানিয়ে দিয়েছেন। 

উপাচার্যের অপসারণের একদফা দাবিতে টানা একমাস ধরে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গত বুধবার সকাল ১১টায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যলেয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় অনশন শুরু করেন শিার্থীরা। ওই রাতেই তাদের সাথে অনশনে যোগ দেন শিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকসহ ৫ জন শিক্ষক। 

অনশনরত শিক্ষার্থী তনুশ্রী ভট্টাচার্য এবং শিক্ষক ইলিয়াস মাহমুদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করার পরও উপাচার্য পদত্যাগ করেননি, এমনকি তাকে অপসারণও করা হয়নি। এ কারণে আমরন অনশন কর্মসূচি বেছে নিয়েছেন তারা। উপাচার্যের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আমরন অনশন চলবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন তারা। 

এদিকে গতকাল সকালে অনশনরত শিক্ষার্থীদের দেখতে যান বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকীর হোসেন। প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি মেডিকেল টিম পাঠানোর কথা বলেন তিনি। 

বেলা ১২টার দিকে অনশনরত শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙ্গাতে যান বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট কমিটির সদস্য ও বরিশাল শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুস, সনাকের জেলা সহসভাপতি প্রফেসর শাহ সাজেদা, বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এসএম ইকবাল এবং মেট্রোপলিটন প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী আবুল কালাম আজাদ। তারা শিক্ষার্থীদের দাবি পূরনের আশ্বাস দিলেও কোন ধরনের প্রতিশ্রুতি নয়, সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা চান আন্দোলনরতরা। এ কারণে অনশন ভঙ্গ করাতে পারেননি তারা। 

শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুস বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে উপাচার্যের ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে যে আবেদন পাঠানো হয়েছে, শিক্ষার্থীরা ওই আবেদনের অনুমোদিত কপি দেখতে চায়। প্রধানমন্ত্রীর নিজের ঘোষণা অথবা অনুমোদিত কপি ছাড়া তারা অনশন ভঙ্গ করবে না বলে তাকে জানিয়েছেন। বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, এটা তো সময়ের ব্যাপার। 

গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না জানানোয় প্রতিবাদ করলে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের কটুক্তি করেন। এর প্রতিবাদ ও প্রত্যাহারসহ ১০ দফা দাবীতে আন্দোলন শুরু করে শিার্থীরা। গত ২৯ মার্চ ভিসি তার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। এতে শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্ট না হওয়ায় ভিসির পদত্যাগের একদফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। কিন্তু তিনি পদত্যাগ না করে ১৫ দিনের ছুটিতে গিয়ে উল্টো গনমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেয়। এতে শিক্ষার্থীরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে উপাচার্যের অপসারনের একদফা দাবিতে বুধবার থেকে আমরণ অনশন শুরু করেন।

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য