২৮ জুন, ২০২২ ১৮:০৩

পহেলা জুলাই থেকে বিমার আওতায় আসছেন রাবি শিক্ষার্থীরা

রাবি প্রতিনিধি

পহেলা জুলাই থেকে বিমার আওতায় আসছেন রাবি শিক্ষার্থীরা

স্বাস্থ্য ও জীবন বীমা প্রকল্পের আওতায় আসছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী। এতে বাৎসরিক দুইশত পঞ্চাশ টাকা পরিশোধের মাধ্যমে মৃত্যুজনিত দাবি বাবদ ২ লক্ষ ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে ৮০ হাজার টাকা পাবেন শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত উন্মুক্ত আলোচনা সভায় এসব কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সভা সূত্রে জানা যায়, ২ বছর মেয়াদী প্রকল্পের আওতায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা ও জীবনবীমা চালু হচ্ছে। ফলে নিজ নিজ বিভাগে ভর্তিকালীন সময়ে বাৎসরিক ২৫০ টাকা পরিশোধের মাধ্যমে এ বীমার অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য এ বীমা বাধ্যতামূলক। অধ্যয়নরত অবস্থায় কোনো শিক্ষার্থীর মৃত্যু হলে অথবা ছাত্রত্ব শেষ হলে এ বীমা পরিসমাপ্ত হবে।

বীমাকৃত শিক্ষার্থীদের বাৎসরিক প্রিমিয়াম ও প্রাপ্ত সুবিধাসমূহের মধ্যে রয়েছে- বাৎসরিক প্রিমিয়াম, বীমাকৃত শিক্ষার্থীদের জনপ্রতি মৃত্যুজনিত দাবী বাবদ ২ লক্ষ টাকা, হাসপাতালে ভর্তিকালীন চিকিৎসার ক্ষেত্রে ৮০ হাজার টাকা। যা প্রতি ৩ মাস পরপর বছরে ৪ বার পেতে পারে। তবে বহির্বিভাগে চিকিৎসার ক্ষেত্রে বছরে ২০ হাজার টাকা পাবেন শিক্ষার্থীরা। যেখানে তাদের প্রতিমাসে একাধিকবার কনসালটেন্সি ফি, মেডিকেল ফি, প্যাথলজি ফি ইত্যাদি বাবদও এ অর্থ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বীমা চালু হলে সকল নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ডাচ-বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং রকেট অ্যাকাউন্টে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।

সভায় জেনিথ ইন্স্যুরেন্সের ডেপুটি ভাইস-প্রেসিডেন্ট আনোয়ার হোসেন সরকার বলেন, শিক্ষার্থীরা প্লে স্টোর থেকে ‘জেনিথ ইসলামী লাইফ ইনসুরেন্স লিমিটেড’ অ্যাপ ডাউনলোড অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইডে গিয়ে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। প্রিমিয়াম পরিশোধ করার বিনিময়ে জীবন বীমার আওতায় থাকা কোনো শিক্ষার্থী মারা গেলে তার পরিবার এককালীন সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পাবেন।

আর স্বাস্থ্য বীমার আওতায় কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিলে সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত বীমা সুবিধা পাবেন। আবার বীমার আওতায় থাকা অসুস্থ হওয়া কোনো শিক্ষার্থী যদি হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী চিকিৎসা নেয় সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বীমা সুবিধা পাবেন। এক্ষেত্রে এক দিনের চিকিৎসা ব্যয় ২০ হাজার হলেও ক্লেইম করতে পারবে শিক্ষার্থীরা। তবে এসব ক্ষেত্রে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন, হাসপাতালের বিলের কাগজপত্র অথবা ভাউচার জমা দিতে হবে।

সভায় উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিরসনে ২ বছর মেয়াদী এই বীমা প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে। যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে কোন শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে অর্থের অভাবে সে খারাপ কোন পরিণতির শিকার না হয়। কেননা এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক দরিদ্র পরিবার থেকেও পড়াশোনার জন্য আসে শিক্ষার্থীরা। তাই আমরা চাই না আমাদের কোন শিক্ষার্থী অর্থের অভাবে বিনা চিকিৎসায় কষ্ট পাক। তবে এটাও চাইনা আমার কোন শিক্ষার্থীর এমন কোন অবস্থা হোক, আমি চাই আমার সকল শিক্ষার্থী সুস্থ থাক। সুন্দর ভাবে পড়াশোনা শেষ করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করুক।

উপাচার্য বলেন, এ প্রকল্পের সকল কার্যক্রম হবে অনলাইন প্রক্রিয়ায়। ফলে শতভাগ নিরাপদ ও জবাবদিহিতা জায়গা রয়েছে। এখানে কোন ধরণের দুর্নীতির সুযোগ নেই। তাই সকল শিক্ষার্থীকে এ বীমার অন্তর্গত হয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সহায়তায় করার আহ্বান করেন উপাচার্য। 

এসময় সভায় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক (অব.) মো. অবায়দুর রহমান প্রামাণিক, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আবদুস সালাম, প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক, ছাত্র উপদেষ্টা এম তারেক নূর, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রদীপ কুমার পাণ্ডেসহ অনুষদ অধিকর্তা, ইন্সটিটিউট পরিচালক, বিভাগীয় সভাপতি ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর