শিরোনাম
২ আগস্ট, ২০২২ ১৬:৫৯

বাংলায় লেখা গবেষণায় চুরি শনাক্তের সফটওয়্যার বানিয়েছে ঢাবি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

বাংলায় লেখা গবেষণায় চুরি শনাক্তের সফটওয়্যার বানিয়েছে ঢাবি

বাংলা ভাষায় লেখা গবেষণা প্রবন্ধে চৌর্যবৃত্তি শনাক্ত করতে সফটওয়ার বানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ‘dubd21’ (ডিইউবিডিটুয়েন্টিওয়ান) নামে এ সফটওয়ারের মাধ্যমে কোনো গবেষণা প্রবন্ধের ‘সিমিলারিটি চেক’ বা প্লেজিয়ারিজম যাচাই করা যাবে। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড মো আখতারুজ্জামান এই সফটওয়্যারটি উদ্বোধন করেন। প্রায় আট মাসের পরিশ্রম শেষে সফটওয়্যারটি তৈরি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার।

উল্লেখ্য, কোনো গবেষণায় পূর্বে করা গবেষণার কোনো অংশ ব্যবহার করতে হলে তা যথাযথ উদ্ধৃতি (রেফারেন্স) দিয়ে ব্যবহার করতে হয়। এভাবেই ‘প্লেজিয়ারিজম’ (গবেষণায় উদ্ধৃতি না দিয়ে কোনো অংশ ব্যবহার করা বা কপি করা) না করে গবেষণার মৌলিকত্ব ঠিক রাখা হয়। ইংরেজি ভাষায় ‘টার্নিটিন’, আইথিনটিকেশনের মত ‘প্লেজিয়ারিজম চেকার’ থাকলেও বাংলা ভাষায় কোনো অ্যাপ্লিকেশন ছিলো না। ‘ডিইউবিডিটুয়েন্টিওয়ান’ বাংলা ভাষায় এ ধরনের প্রথম অ্যাপ্লিকেশন। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই সফটওয়্যারটি বাংলা ভাষায় লিখিত আর্টিক্যাল, কন্টেন্ট, অ্যাসাইনমেন্ট, রিসার্স পেপারে কতটুকু মৌলিকত্ব সেটা যাচাই করতে সক্ষম হবে। এছাড়াও কোন কোন উৎস থেকে তথ্য নেওয়া বা কপি করা হয়েছে, কত শতাংশ কপি করা হয়েছে সেটা দেখাবে। এই সফটওয়্যারটি প্রথমে বাংলা ভাষায় লিখিত বিভিন্ন জার্নাল, রিসার্চ আর্টিকেল, অ্যাসাইনমেন্টকে প্রাইমারী সোর্স হিসেবে ইনক্লুড করবে। তারপর নতুন কোনো গবেষণার সিমিলারিটি ইনডেক্স নির্ণয়ের জন্য সফটওয়্যারে ইনপুট করা হলে সফটওয়্যার সেটি নির্ণয় করবে।

অনুষ্ঠানে আবদুস সাত্তার বলেন, এই সফটওয়ারের আরো উন্নয়ন করা হবে। প্রাইমারী সোর্স সংযোজন করাসহ এতে বিভিন্ন বিষয় সংযোজন করা হবে। তারপর নীতিমালার আলোকে আমরা এটিকে কমার্শিয়ালি লঞ্চ করব। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, সফটওয়ারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে ঠিক তেমনি গবেষণায় এটি ব্যবহৃত হবে। কেউ গবেষণা করতে চাইলে তার গবেষণায় কোনো সিমিলারিটি আছে কিনা যাচাই করতে পারবে এটির মাধ্যমে। এর ফলে গবেষণাটি হবে একেবারে মৌলিক। আর এই মৌলিকত্বই হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান। 

বিশ্ববিদ্যালয় মৌলিক গবেষণার উপর বিশেষ জোর দিচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে রূপান্তর করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পূর্বাচলে রাজউক আমাদের যে জায়গাটি দিয়েছে সেখানে আমরা আমাদের সম্পূর্ণ একটি ভিন্ন ক্যাম্পাস তৈরি করব। যেখানে গতানুগতিক আবাসিক সুবিধা বা শ্রেণিকক্ষ থাকবে না। সেটিকে আমরা ‘এক্সক্লুসিভ ইনোভেশন ক্যাম্পাসে’ রূপান্তর করবো। সেখানে বায়োসাইন্স, ফার্মেসী, ইঞ্জিনিয়ারিং, বিজ্ঞান, মানবিক, কলার সব এক্সক্লুসিভ গবেষণা পরিচালিত হবে। এছাড়া কক্সবাজারেও ব্লু ইকোনোমির জন্য গবেষণা ও উদ্ভাবনী ক্যাম্পাস গড়ে তোলা হবে বলেও জানান ড আখতারুজ্জামান। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রবীর কুমার সরকারের সঞ্চালনায় সফটওয়্যারটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষকবৃন্দ।

বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর