Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ৯ নভেম্বর, ২০১৯ ১৮:৫১
আপডেট : ৯ নভেম্বর, ২০১৯ ২০:০৮

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল; চট্টগ্রামে ৪৭৯টি সাইক্লোন সেন্টার এবং চার হাজার বিদ্যালয় প্রস্তুত

নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল; চট্টগ্রামে ৪৭৯টি সাইক্লোন সেন্টার এবং চার হাজার বিদ্যালয় প্রস্তুত
নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকিং

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে চট্টগ্রামে ৯ নম্বর বিপদসংকেত জারির পর জেলার ৬টি উপকূলীয় উপজেলার লোকজনকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকিং করছে প্রশাসন। ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনে চাপ সৃষ্টিও করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। উপকূলীয় এলাকা বিশেষ করে সন্দ্বীপ, বাঁশখালী, আনোয়ারা, কর্ণফুলী, সীতাকুণ্ড, মিরসরাই উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এদেরকে সাইক্লোন সেন্টার ও স্থানীয় স্কুল-কলেজের পাকা দালানে রাখা হচ্ছে। জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, জেলায় ৪৭৯টি স্থায়ী সাইক্লোন সেন্টার এবং প্রায় চার হাজার স্কুল-কলেজের পাকা ভবন উপকূলবাসীদের আশ্রয় দিতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এদিকে বুলবুল মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসও। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ২৮টি ইউনিটকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে সার্বক্ষণিক। চট্টগ্রামের ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক জসিম উদ্দিন জানান, রিজার্ভ ও ভলান্টিয়ারসহ ১০টি রেসকিউ গাড়ি উপকূলে পাঠানো হয়েছে। তারা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা লোকজনকে সরানোর কাজ করছে।

এদিকে, চট্টগ্রাম মহানগরীসহ আশেপাশের এলাকায়গুলোয় শনিবার সকাল থেকে মাঝারি ও ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বেগের বাতাসের শক্তি নিয়ে বুলবুল সুন্দরবন দিয়ে উপকূলে আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান চট্টগ্রাম আবহাওয়া অধিদপ্তর। তাই চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুরকে ৯ নম্বর বিপদ সঙ্কেতের আওতায় রাখা হয়েছে। মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত, চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত এবং কক্সবাজারকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যানুযায়ী, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আরও উত্তর দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে ঝোড়ো হাওয়ার আকারে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে।

আবহাওয়াবিদ ড. শহীদুল্লাহ বলেন, ‘অতিপ্রবল এই ঘূর্ণিঝড়টি শনিবার রাত ৮টার দিকে উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বেগের বাতাসের শক্তি নিয়ে বুলবুল সুন্দরবন দিয়ে উপকূলে আঘাত হানতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘১০ বছর আগে পশ্চিম বঙ্গের সাগরদ্বীপ ও সুন্দরবন এলাকায় আঘাত হেনেছিল ঘূর্ণিঝড় আইলা। সেই ঝড়ের শক্তি ছিল বুলবুলের মতোই। বুলবুলের তাণ্ডবে সুন্দরবনের ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে। জনবসতির উপর দিয়ে প্রবাহিত হলে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে কল্পনাতীত।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য