শিরোনাম
প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২০:২১
আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২১:০৭

পিয়াজের দাম এখনও অধরা চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে

সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

পিয়াজের দাম এখনও অধরা চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে
ফাইল ছবি

চলমান পিয়াজ সংকট কাটাতে বিভিন্ন দেশ থেকে পিয়াজ আমদানি করতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এতে সরকারের সহযোগিতাও কামনা করছেন ব্যবসায়ী নেতারা। ভারত ছাড়া বিকল্প অন্য কোন দেশ থেকে পিয়াজ আমদানি করা গেলে পিয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন অনেক ব্যবসায়ী। 

বিভিন্ন দেশ থেকে পিয়াজ আমদানি করে দেশে টিসিবির মাধ্যমে ন্যায্য মূল্যে পিয়াজ বিক্রয়েরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে অনেক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। এখন পর্যন্ত ৫টি দেশ থেকে মোট ১১ হাজার টন পিয়াজ আমদানি করার জন্য অনুমোদন (পারমিট) নিয়েছেন দেশের পিয়াজ ব্যবসায়ীরা।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, দেশের শীর্ষ একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান মিশর-তুরস্ক থেকে বাল্ক ক্যারিয়ারে পিয়াজ আমদানি করছে। আগামী রবিবার আমদানি ঋণপত্র খোলা হবে। ১৫ দিনের মধ্যেই বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজযোগে এ চালানের পিয়াজ আসবে চট্টগ্রাম বন্দরে। এছাড়াও সারাদেশের ২৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চীন, মিয়ানমার, পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্ক থেকে পিয়াজ আমদানির প্রক্রিয়াও শুরু করেছে।

ভারত থেকে আমদানি বন্ধ হওয়ায় চট্টগ্রামসহ সারাদেশে পিয়াজের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ায় দ্বিগুণ মূল্যে পিয়াজ ক্রয় করতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতারা। কয়েক সপ্তাহ ধরেই দেশি-বিদেশী পিয়াজ খুচরা বাজারে কেজি প্রতি ২০-৩০ টাকা বেশী দামেই স্থির হয়ে আছে। নানা কৌশলে পিয়াজের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির জন্য একটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট নেপথ্যে কাজ করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। ফলে বর্তমান করোনা পরিস্থিতি বা চলমান নানাবিধ সংকটের মধ্যেও খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সাধারণ ক্রেতারা বেশী দামে পিয়াজ ক্রয় কষ্টকর হয়ে উঠছে। 

সর্বশেষ শুক্রবারও খুচরা বাজারে দেশি-বিদেশী ৬০-৮০ টাকায় পিয়াজ বিক্রয় হচ্ছে। ক্ষেত্র বিশেষে এসব পিয়াজ ১০০ টাকায়ও কিনছেন ক্রেতারা। এতে মারাত্মক বিপাকে পড়েছেন সাধারণ নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষেরা।

চট্টগ্রাম প্ল্যান্ট কোয়ারেন্টাইন স্টেশনের (সমুদ্র বন্দর) উপ-পরিচালক ড. মো. আসাদুজ্জামান বুলবুল বলেন, ভারতের বিকল্প দেশ থেকে পিয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন দেশ থেকে পিয়াজ আমদানির জন্য পারমিট সংগ্রহ করা শুরু করেছেন।

পিয়াজের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, সুুযোগ বুঝেই কিছু পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী অযথা পিয়াজের দাম বাড়িয়েছেন। আগামী দিনের চাহিদা পূরণে চীন, মিশর, মিয়ানমার, পাকিস্তান ও তুরস্ক থেকে অতি শিগগির পিয়াজ আমদানি করার জন্য সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের প্রতি আহ্বান জানাই। তবে সড়ক পথেও মিয়ানমার থেকে পিয়াজ আমদানি করে বর্তমান চাহিদা পূরণ করা সম্ভব বলে জানান তিনি।

খাতুনগঞ্জ হামিদুল্লাহ বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. ইদ্রিস বলেন, বাজারে দেশি-বিদেশী পিয়াজের দাম বেড়ে বর্তমানে স্থিরতার মধ্যে আছে। কেজি প্রতি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত বেশী দামে বিক্রয় হচ্ছে খুচরা বাজারে। 

তিনি বলেন, সরকারের সহযোগিতায় বিকল্প পরিকল্পনা করে পিয়াজ আমদানির উদ্যোগ নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সরকারের সহযোগিতায় কিছু দিনের মধ্যেই এসব দাম আবারও কমে আসবে বলে জানান তিনি।

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর