শিরোনাম
১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২১:২৯

চট্টগ্রামে এবারও ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন অস্থায়ী মিনারে

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে এবারও ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন অস্থায়ী মিনারে

চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি নতুন করে নির্মাণ করা হয়। নির্মাণ কাজ শেষ হলেও আসন্ন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে নতুন শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা যাচ্ছে না। ডিজাইনগত ত্রুটির ঝুঁকির কারণে সর্বস্তরের মানুষের আপত্তির মুখে এবারও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) মিউনিসিপ্যাল মডেল হাই স্কুল মাঠের অস্থায়ী শহীদ মিনারে চট্টগ্রামবাসী শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। 

আজ চসিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধির সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত হয়। ২০২২ সাল থেকে চট্টগ্রামবাসী মডেল স্কুলের অস্থায়ী শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করে আসছে।    

নগরবাসীর অভিযোগ, নতুন শহীদ মিনারটি দর্শকবান্ধব নয়। চলার পথে চোখে পড়ে না। সিঁড়ি বেয়ে উঠে দেখতে হবে। মিলনায়তন ও গ্রন্থাগারের সঙ্গে শহীদ মিনারকে যুক্ত করতে গিয়ে সড়কের ওপর ওভারব্রিজ নির্মাণ করায় ঢেকে যায় শহীদ মিনার। দেখা যায় না নিচ থেকে। তাই নাগরিক সমাজ এই শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আপত্তি জানান। এ আপত্তির মুখেই আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হচ্ছে না।    

জানা যায়, সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউ সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স’ শীর্ষক ২৮১ কোটি ৩৯ লাখ প্রকল্পের অধীন নতুন শহীদ মিনারটি নির্মাণ করা হয়। গত ২৮ অক্টোবর এটি উদ্বোধন করা হয়। এরপর গত ১৬  ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর কথা থাকলেও অপরিকল্পিত ডিজাইনে তৈরি করায় বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়নি। এ নিয়ে করণীয় নির্ধারণে গত ২৪ ডিসেম্বর চসিক মেয়রের নেতৃত্বে নগরবিদ-প্রকৌশলী-স্থপতি-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের নিয়ে সাত সদস্যের একটি কারিগরি কমিটি গঠিত হয়। কমিটি ইতোমধ্যে একাধিকবার শহীদ মিনারটি পরিদর্শন এবং বৈঠক করে দশটি সুপারিশ করেন। এসব সুপারিশ চসিক মেয়রের কাছে হস্তান্তর করা হয়।    

চসিক মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, নবনির্মিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নিয়ে নাগরিক সমাজের অভিযোগের ভিত্তিতে কারিগরি কমিটি গঠিত হয়। কমিটি সরেজমিন পরিদর্শন করে দশটি সুপারিশ দেয়। এসব সুপারিশ প্রকল্প কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাব। তাছাড়া, নাগরিক কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় শহীদ মিনারটি দৃশ্যমান ও দৃষ্টিনন্দন না হওয়া পর্যন্ত এখানে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হবে না।   

জানা যায়, ১৯৬২ সালে নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন কে সি দে সড়ক এলাকায় শহীদ মিনারটি নির্মাণ করা হয়। চসিক উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ডিজাইন আহ্বান করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ করেছিল। এটির নকশা তৈরি করেছিলেন বুয়েটের তৎকালীন স্থাপত্য বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আহমদ জিন্নুর চৌধুরী। এরপর থেকে চট্টগ্রামে স্মৃতিসৌধ না থাকায় একুশে ফেব্রুয়ারি, ১৬ ডিসেম্বর, ২৬ মার্চসহ জাতীয় দিবসগুলোতে শহীদ মিনারেই সকল কর্মসূচি পালন করা হয়। এ শহীদ মিনারে সর্বশেষ ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল। এরপর ২৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় ভাঙার কাজ।  

বিডি প্রতিদিন/হিমেল

সর্বশেষ খবর