Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ মার্চ, ২০১৭ ০৩:০৩

ট্রান্সমিটার পিঠে নিয়ে কচ্ছপের ৩৬ দিন ভ্রমণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ট্রান্সমিটার পিঠে নিয়ে কচ্ছপের ৩৬ দিন ভ্রমণ

পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার নিয়ে ৩৬ দিন একটি কচ্ছপের ঘুরে বেড়ানো নিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে সাতক্ষীরার তালা উপজেলায়। এর আগে পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার লাগিয়ে ৩৬ দিন আগে সুন্দরবনে ছেড়ে দেওয়া হয় মহাবিপন্ন বাটাগুর বাসকা প্রজাতির একটি কচ্ছপকে। পরে গতকাল সেই কচ্ছপের দেখা মেলে তালা উপজেলার পাখিমারা বিলে। স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার পিঠে এই অভিযাত্রায় কচ্ছপটি সুন্দরবন থেকে ৬০ কিলোমিটার অতিক্রম করে চলে আসে পাখিমারা বিলে। জানা গেছে, তালার খেশরা ইউনিয়নের বাসিন্দা শেখ ওহাব উদ্দিন গতকাল সকাল ৮টার দিকে পাখিমারা বিলে ১৫ কেজি ওজনের কচ্ছপটি পান। তিনি সেটি বিক্রির আশায় শ্রীমন্তকাটি নতুন বাজার মৎস্য আড়তে নিয়ে গেলে কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে যায়। কচ্ছপের পিঠে অ্যান্টেনা লাগানো থাকায় দ্রুত সে খবর ছড়িয়ে পড়ে। কচ্ছপের পিঠের অ্যান্টেনা নিয়ে ততক্ষণে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। এক পর্যায়ে খবর যায় খেশরা পুলিশ ফাঁড়িতে। খেশরা পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা উপ-পরিদর্শক মাজেদ হাওলাদার কী করবেন বুঝতে না পেরে কচ্ছপটি পাঠান তালা থানায়।  সেখান থেকে তালা থানার ওসি মো. হাসান হাফিজুর রহমান  যোগাযোগ করেন বনবিভাগের সঙ্গে। জানা যায়, মহাবিপন্ন বাটাগুর বাসকা প্রজাতির কচ্ছপ রক্ষায় পরিচালিত এক প্রকল্পের আওতায় গত ৫ ফেব্রুয়ারিতে যে দুটি কচ্ছপ ট্রান্সমিটার বেঁধে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, এটি তারই একটি। বন বিভাগের বন সংরক্ষক (বন্যপ্রাণী) মো. জাহিদুল কবির বলেন, এক সময় সুন্দরবনের বাদাবন এই প্রজাতির কচ্ছপের আবাসস্থল ছিল। কিন্তু ওই এলাকার উন্মুক্ত প্রকৃতিতে দীর্ঘদিন বাটাগুর বাসকার বিচরণ চোখে পড়েনি। এ প্রজাতির কচ্ছপের জীবনচারণ ও প্রজনন সম্পর্কে ধারণা পেতে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসিয়ে দুটি পুরুষ কচ্ছপ উন্মুক্ত প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এর অংশ হিসেবেই গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবনসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের মোহনার আদাচাই এলাকায় শিবসা নদী ক্যাম্প এলাকা থেকে মুক্ত করে দেওয়া হয় কচ্ছপ দুটি। এ প্রকল্পের ভাওয়াল স্টেশনের ম্যানেজার মোরশেদ আহমেদ জানান, স্যাটেলাইট ট্রান্সমিশনের জন্য কচ্ছপ দুটির পিঠে যে ডিভাইসটি বসানো হয়েছে সেগুলোর ওজন ৫০০ গ্রামের মতো। ব্যাটারির মেয়াদ এক বছর। তিনি জানান, পানির নিচে থাকলে কচ্ছপগুলোর কাছ থেকে সিগন্যাল পাওয়া যায় না। সেগুলো পানির ওপরে থাকলে অবস্থান শনাক্ত করা যায়। এর মাধ্যমে সরাসরি ভিয়েনা থেকেও কচ্ছপগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়। বন বিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষক সাজেদুল হাসান জানান, সাতক্ষীরা থেকে খবর পেয়ে তাদের একটি দল বিকালে তালা থানায় গিয়ে কচ্ছপটি নিয়ে এসেছে। সেটি আবার প্রকল্প কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর