শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:২৫

রাজশাহীতে রেকর্ড ভেঙেছে বিদ্যুতের লোডশেডিং

সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি বলছে নেসকো

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রাজশাহীতে রেকর্ড ভেঙেছে বিদ্যুতের লোডশেডিং

রাজশাহীতে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের মাত্রা অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। দিনে-রাতে অন্তত ৭ থেকে ৮ বার চলছে বিদ্যুতের যাওয়া আসা। ফলে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন মানুষ। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছে, তেমন লোডশেডিং নেই। যেটুকু হচ্ছে, সেটা লাইন সংস্কারের জন্য। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থা নেসকোর এমন কথা মানতে নারাজ নগরবাসী। নগরবাসী বলছেন, রাতেও বিদ্যুতের লাইন মেরামত বা সংস্কার হয় নাকি? তা না হলে রাতে কেন এত লোডশেডিং? এতে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। বিদ্যুতের এমন লোডশেডিংয়ের বিষয়ে খোঁজ নিতে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে      ফোনও করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে রাজশাহীজুড়ে বিদ্যুতের ভেলকিবাজি লেগেই আছে। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। দিন-রাত বিদ্যুতের লোডশেডিং হচ্ছে সমানতালে। একদিকে প্রচ- গরম, অন্যদিকে বিদ্যুতের লোডশেডিং। দুইয়ে মিলে মানুষ ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। এ নিয়ে নেসকোর গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। বছরের অন্য সময়ে গ্রামাঞ্চলে সেচ সুবিধা দেওয়ার জন্য বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়ার কথা বলা হলেও বর্ষা মৌসুমে এমন সুযোগ নেই। তারপরও লোডশেডিং।

গত দেড় মাস ধরে নগরীতে অসহনীয়ভাবে লোডশেডিং চলছে। এখন সেই লোডশেডিং উপজেলা পর্যায়েও চলছে। দিনরাত মিলিয়ে ৭ থেকে ৮ বার বিদ্যুতের লোডশেডিং হচ্ছে। কখনো কখনো এক থেকে দেড় ঘণ্টা আবার আরও বেশি সময় বিদ্যুৎ অফ থাকে। ফলে একদিকে মানুষ যেমন গরমে কষ্ট পাচ্ছেন অন্যদিকে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় জিনিস ফটোকপি বা কম্পোজ করতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়াও অফিস-আদালতের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সময়মতো ফটোকপি করতে না পারায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিদ্যুতের স্বাভাবিক সরবরাহে এক মাসের আলটিমেটাম দিয়েছে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, রাজশাহী অঞ্চলে বিদ্যুতের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নেসকো বিদ্যুৎ নিয়ে যা ইচ্ছে করছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে নেসকোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (দায়িত্বপ্রাপ্ত) শিরিন ইয়াসমিন বলেন, কাটাখালী গ্রিড থেকে দুটি ট্রান্সফারের মাধ্যমে নেসকো বিদ্যুৎ পায়। কিন্তু গ্রিড থেকে ঠিকভাবে তাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে না। সঞ্চালন লাইনে বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দিয়েছে। সেটির মেরামত কাজ চলছে। সঞ্চালন লাইনটি দীর্ঘদিনের, তাই সংস্কারে কিছুটা সময় লাগছে। যার প্রভাব শুধু নগরী নয়, পল্লী বিদ্যুৎ এলাকাতেও পড়েছে। কবে নাগাদ সংস্কার শেষ হবে, তা জানা নেই বলে দাবি করেন এই প্রকৌশলী।          উল্লেখ্য, রাজশাহীতে বিদ্যুতের চাহিদা ১০০ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ আছে চাহিদা অনুযায়ী।

 


আপনার মন্তব্য