শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০৮

সড়ক প্রশস্ত করতে দুই হাজার গাছ নিধন

কাজী শাহেদ, রাজশাহী

সড়ক প্রশস্ত করতে দুই হাজার গাছ নিধন

মাত্র ৩৫ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করতে কাটা হয়েছে প্রায় দুই হাজার মূল্যবান গাছ। আর এসব গাছ বিক্রি করা হয়েছে সাত বছর আগের দামে। গাছ কাটার আগে পরিবেশ অধিদফতরের মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু এখানে তা মানা হয়নি। এভাবেই চলছে কাশিয়াডাঙ্গা-দামকুড়া সড়কে বৃক্ষ নিধন। সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে এই সড়কটি প্রশস্তকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী বৃক্ষপালনবিদের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, কাশিয়াডাঙ্গা থেকে কাঁকনহাট হয়ে আমনুরা পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার সড়ক পুনর্নির্মাণ ও প্রশস্ত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সড়কটি চওড়া করতে দুই ধারে থাকা মূল্যবান এসব গাছ সাবাড় করা হচ্ছে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে গড়ে প্রতিদিন অন্তত ২৫ জন করে শ্রমিক গাছ কাটছে। বেশির ভাগই কাটা হয়ে গেছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ ছাড়াও এসব গাছের মালিকানা আছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) সামাজিক বন বিভাগ ও জেলা পরিষদের। এর মধ্যে কেবল বিএমডিএ কেটেছে ৭৯০টি আর সড়ক ও জনপথ বিভাগ কেটেছে ৬৬৩টি গাছ।

রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় বৃক্ষপালনবিদ বিপ্লব কু-ু বলেন, সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের সঙ্গে সভা করে জানতে চাওয়া হয়েছিল এই সড়কে কোন বিভাগের কতটি গাছ আছে। গাছের বিপরীতে যারা প্রমাণ দেখাতে পেরেছেন তারাই গাছ পেয়েছেন।

 তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে খোঁজ নেওয়া হলে তারা জানিয়েছে, এ সড়কে তাদের কোনো গাছ নেই। তবে এলজিইডির আছে। এলজিইডির পবা উপজেলা কার্যালয় থেকেও জানানো হয়েছে, গাছে তাদের অংশীদারিত্ব নেই। তবে জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার আলী হোসেন বলেন, তারা মাত্র ১৪টি গাছের কাগজপত্র দেখাতে পেরেছেন। তাই ওই সংখ্যক গাছ তারা কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার বলছেন, গাছের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তার দফতর থেকেও তাকে অবহিত করা হয়নি।

 এদিকে, এসব গাছ বিক্রি করা হয়েছে সরকারের বেঁধে দেওয়া সাত বছর আগের দামে। ২০১২ সালের ১৬ এপ্রিল সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান বৃক্ষপালনবিদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সার্ভে মূল্য তালিকা অনুযায়ী গাছগুলোর দাম ধরা হয়েছে। কিন্তু সাত বছর আগের দাম আর বর্তমান দাম একই হতে পারে না-এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে।

 এই বিপুলসংখ্যক বৃক্ষ নিধনের আগে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি বলে স্বীকারও করেছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় বৃপালনবিদ বিপ্লব কু ু। রাজশাহী পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মামুন অর রশিদও জানিয়েছেন, ওই সড়কের গাছ কাটতে তাদের কোনো মতামত চাওয়া হয়নি।

  উন্নয়নের অজুহাতে গাছ নিধন করে লাভবান হতে একশ্রেণির কর্মকর্তা সব সময় তৎপর-এমন অভিযোগ করে পরিবেশ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে আন্দোলনেরও ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপার রাজশাহী শাখার সভাপতি মো. জামাত খান। তিনি বলেন, ‘আমরা উন্নয়নবিরোধী নই। প্রধানমন্ত্রীও গাছ কাটার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। কিন্তু এরপর নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন চলছেই।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর