Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper

শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:২৫

তিন প্রকল্পের দিকে তাকিয়ে রাজশাহী

বিসিক-১, চামড়াশিল্প পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চল

কাজী শাহেদ, রাজশাহী

তিন প্রকল্পের দিকে তাকিয়ে রাজশাহী

স্বাধীনতার আগে রাজশাহীতে যেসব শিল্প-প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল, সেগুলো এখনো ভরসা। নতুন করে আর শিল্প-প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। তাই বরাবরই পিছিয়ে পড়া রাজশাহীর মানুষের দাবি ছিল, নতুন করে শিল্পায়ন আর কর্মসংস্থানের। সরকারের সুনজর পড়েছে। ইতিমধ্যে বিসিক-১, চামড়াশিল্প পার্ক ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এখন এই তিন প্রকল্পের দিকে তাকিয়ে রাজশাহীর মানুষ।                রাজশাহীতে বিসিক-২ প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পটির জন্য জমি অধিগ্রহণের পর এখন মাটি ভরাটের অপেক্ষায়। বিসিকের চেয়ারম্যান মোশতাক হাসান জানান, বিসিকের এই প্রকল্পটির কাজ শেষ হলে নতুন নতুন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে। ফলে একদিকে শিল্পায়ন যেমন বাড়বে, তেমনি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন জানান, বিসিক-২ প্রকল্পে কেবল প্রকৃত উদ্যোক্তাদের প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে। যাতে করে সেখানে শিল্প গড়ে উঠতে পারে। এই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ শেষ হতে এখনো দেড় বছর সময় লাগবে। পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুর ও বানেশ^র এলাকায় গড়ে তোলা হবে চামড়া শিল্প পার্ক। ইতিমধ্যে ওই এলাকার জায়গা ঘুরে দেখেছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী রাজশাহীতে চামড়াশিল্প পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশন (বিসিক) চেয়ারম্যান মোশতাক হাসানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। বৈঠকে রাজশাহীতে চামড়াশিল্প পার্ক গড়ে তোলার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

এর মাধ্যমে রাজশাহীতে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে মনে করেন রাসিক মেয়র। তিনি বলেন, রাজশাহীতে চামড়াশিল্প পার্ক গড়ে উঠলে উত্তরাঞ্চলের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যসামগ্রীর ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে এ অঞ্চলের বেকারত্ব দূর হবে।

                রাজশাহীতে বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সূত্র জানায়, বেকার সমস্যার সমাধান এবং কৃষিপণ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করা হচ্ছে। রাজশাহী জেলার পবা উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর, মারিয়া, বালানগর, ভবানীপুর ও কয়রা এলাকার ২০৫ একর জমিতে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করা হবে। এতে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা হবে। ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমি ন্যায্যমূল্যে কেনা যাবে।    রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন জানান, ২০১৯ সালের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে তোলা হবে। এই সময়ের মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু হবে। তিনি জানান, মূলত এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে বৈদেশিক বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা হবে। তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও অর্থনৈতিক অঞ্চল কমিটি প্রকল্প এলাকা নির্বাচনের কাজ শেষ করেছে। এর আলোকে জেলা প্রশাসন ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প এলাকা নির্বাচনের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।           রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনি বলেন, এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে অবশ্যই কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এ ছাড়া অনেক বিনিয়োগকারীকে শিল্প স্থাপনে আগ্রহী করবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর