শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৩৯

কাঁচা পাট রপ্তানিতে সাফল্য পাটপণ্য বিক্রিতে ভাটা

এখনো মজুদ ২৮ হাজার মেট্রিক টন

সামছুজ্জামান শাহীন, খুলনা

কাঁচা পাট রপ্তানিতে সাফল্য পাটপণ্য বিক্রিতে ভাটা

২০১৯ সালের ২৯ মে সব ধরনের কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে সরকার। এতে আবারো চাঙ্গা হয়েছে স্থানীয় পাটের বাজার। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) ৪৯ জন রপ্তানিকারক ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৬৬ বেল পাট বিদেশে রপ্তানি করেছেন। যদিও প্রতি বছর গড়ে ৭ থেকে ৮ লাখ বেল পাট বিদেশে রপ্তানি হয়। তবে একেবারে বিপরীত চিত্র রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোতে। খুলনাঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলে এখনো গত বছরের উৎপাদিত পাটজাতপণ্য মজুদ রয়েছে ২৮ হাজার ৪৩৩ মেট্রিকটন। পণ্যের উৎপাদন খরচ বেশি ও বিশ্ববাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, আর্থিক সংকটের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোতে মৌসুমে কাঁচা পাট কেনা সম্ভব হয় না। পরে একই পাট দ্বিগুণ-তিনগুণ বেশি দরে মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছ থেকে কিনতে হয়। এতে উৎপাদনের শুরুতেই বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে পাটকলগুলো। বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) তথ্য মতে চলতি অর্থবছরে খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে কাঁচা পাট কেনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ লাখ ৩১ হাজার ৮৯৩ কুইন্টাল। এখন পর্যন্ত কেনা হয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার ৮৬৬ কুইন্টাল। যা লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ২৬ শতাংশ। ফলে কমেছে উৎপাদন, বন্ধ রয়েছে বেশিরভাগ তাঁত।

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মুরাদ হোসেন জানান, ভরা মৌসুমে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কাঁচাপাটের দাম থাকে ১৪০০ টাকা মণ। কিন্তু ওই সময় মিলগুলোতে টাকা বরাদ্দ না থাকায় পরে একই পাট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯০০ থেকে ১ হাজার ৯৫০ টাকা মণ দরে কিনতে হয়। আর মৌসুমের শেষে ওই পাট ২ হাজার ২০০-২ হাজার ৩০০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। এ ছাড়া ভারতে উন্নত মানের কাঁচা পাট রপ্তানি করা হলেও সরকারি মিলগুলোতে কেনা হয় নিম্নমানের পাট। ফলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা দুষ্কর হয়ে পড়ে। পাট ও পাটশিল্প রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক খালিদ হোসেন বলেন, মাথাভারী প্রশাসন, অপ্রয়োজনীয় খাতে অর্থ ব্যয়, অতিরিক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন, অদক্ষতা, সময় মতো পাটপণ্য বিক্রি করতে না পারায় মিলগুলো লাভের মুখ দেখছে না। তিনি কাঁচা পাট কিনতে মিলগুলোতে মৌসুমের শুরুতে অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান।

এদিকে পাট রপ্তানিকারকরাও দুষছেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে।

বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএ) ভাইস চেয়ারম্যান মো. কুতুবউদ্দিন বলেন, মাঝে মধ্যেই কাঁচাপাট রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এতে রপ্তানির জন্য পাট প্যাকেজিং করা হলেও তা বাতিল করতে হয়। বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে চুক্তি রক্ষা করা যায় না। তবে কাঁচাপাট রপ্তানিতে আবারো ঘুরে দাঁড়িয়েছে রপ্তানিকারকরা। আর আর্থিক সংকটের কারণে মিলগুলোতে কাঁচাপাট কিনতে সমস্যায় পড়তে হয় জানিয়ে বিজেএমসির খুলনার সমন্বয়কারী মো. বনিজ উদ্দিন মিয়া জানান, উৎপাদিত পণ্য বিক্রি না হওয়ায় মজুদ বেড়েছে। আশা করছি দ্রুত এসব পণ্য বিক্রি হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর