শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:০৯

হজ ফ্লাইটের ভাড়া নিয়ে ত্রিমুখী সংকট

মোস্তফা কাজল

হজ ফ্লাইটের ভাড়া নিয়ে ত্রিমুখী সংকট

চলতি বছরে হজযাত্রীর বিমান ভাড়া বৃদ্ধির ঘোষণায় ত্রিমুখী সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ ধর্ম মন্ত্রণালয় ও হজ এজেন্সিজ অব বাংলাদেশ-হাব। গত রবিবার চলতি বছরে পবিত্র হজ পালনের বিমান ভাড়া ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা ঘোষণা করা হয়। ২০১৯ সালে হজ ফ্লাইটের বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা। ২০১৮ সালে ছিল ১ লাখ ৩৮ হাজার ১৯১ টাকা। তবে চলতি বছর বিমান মন্ত্রণালয় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা বিমানের ভাড়া নির্ধারিত করে              ঘোষণা দিয়েছে। হজের বিমান ভাড়া নিয়ে তৃতীয় পক্ষীয় দেনদরবার শুরু হয়েছে। এ থেকে সমাধানের পথ বেরিয়ে আসবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। হজ এজেন্সিজ অব বাংলাদেশ-হাব সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, হজযাত্রীর বিমান ভাড়া বাড়ানোর কোনো যৌক্তিক কারণ দেখানো হয়নি। বরং আন্তর্জাতিক বাজারে জেট ফুয়েলের দাম কমায় ভাড়া কমানো উচিত।

 আমরা আজ এ বিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরব। এছাড়া আগামী রবিবার ধর্ম মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সভা ডেকেছে। এদিকে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেছেন, বিমান ভাড়া কমালে হাজীদের সুবিধা হবে। এটি  বিমান মন্ত্রণালয় আবারও ভেবে দেখতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হজযাত্রীদের বিষয়ে সব সময় আন্তরিক। বাংলাদেশ হজযাত্রী ও হাজী কল্যাণ পরিষদের অভিযোগ, অতিরিক্ত ভাড়ার নামে হাজীদের কাছ থেকে অন্তত ৩৫০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। এ টাকা বিদেশে পাচার হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে সংগঠনটি এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানাবে। এছাড়া হজ এজেন্সির নেতারা বলছেন, সৌদি এয়ারলাইন্স বাদে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক অন্য এয়ারলাইন্সগুলোয় সাধারণত ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা যাতায়াতের ভাড়া নেওয়া হয় ৪২ থেকে ৪৪ হাজার টাকা। এ বছর ওমরা পালনেচ্ছুদের কাছ থেকে বাংলাদেশ বিমান জেদ্দা যাওয়া-আসার ভাড়া নিচ্ছে ৫২ হাজার টাকা। হজের সময় এ ভাড়া ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা কেন হবে?

বিমান মন্ত্রণালয় বলছে, হজের সময় বিমান জেদ্দা থেকে খালি ফিরে আসে এবং হজ শেষে হাজীদের নিয়ে আসার পর খালি ফিরে যায়-এ যুক্তি মেনে নিলেও হাজীদের বিমান ভাড়া বড়জোর দ্বিগুণ হতে পারে। কিন্তু তা তিনগুণ  কেন হবে? বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর যেসব মানুষ হজ পালনে সৌদি আরব যান, তাদের বেশির ভাগই মধ্যবিত্ত শ্রেণির। সরকারিভাবেই যদি বিমানের ভাড়া তিনগুণ করা হয়, তাহলে হজ পালনেচ্ছু সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের মাত্রা আরও বাড়বে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর