শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ মে, ২০২০ ২৩:২৭

সিলেটে সহিংসতা বাড়ছে

এক সপ্তাহে পাঁচ খুন

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট

সিলেটে সহিংসতা বাড়ছে

লকডাউনে ঘরবন্দী মানুষ। এর প্রভাব পড়ছে পরিবার ও সমাজে। ফলে বাড়ছে সামাজিক ও পারিবারিক সহিংসতা। ঘটছে খুনোখুনি। সিলেটে এ রকম সহিংস ঘটনায় গত সপ্তাহে পাঁচটি খুন হয়েছে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিক চাপ থেকেই মানুষ অসহিষ্ণু হচ্ছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সহিংস হচ্ছে।

গত সোমবার সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের মাঝের মহল্লা গ্রামে স্বামীর ছুরিকাঘাতে খুন হন শিল্পী বেগম নামে এক গৃহবধূ। পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী এনাম উদ্দিন স্ত্রীর গলায় ছুরি বসিয়ে দেন। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান শিল্পী বেগম। এর পর থেকে এনাম পলাতক। গত শুক্রবার দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার ইউনিয়নের ভরাউট গ্রামে জমির মালিকানাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে আপন ভাতিজার হাতে খুন হন ওই গ্রামের আবদুল জব্বার (৫৩)। বড় ভাই আবদুস সাত্তারের ছেলে ফাহমিদ আহমদের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে খুন হন তিনি।

৬ মে এক দিনে সিলেটে তিনটি খুন হয়েছে। ওইদিন ওসমানীনগর উপজেলার পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের ঈশাগ্রাই গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় প্রাণ হারান শিপন মিয়া নামে এক যুবক। সে ওই গ্রামের আশিক আলীর ছেলে। হামলায় আশিক আলী ও তার পরিবারের লোকজনসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। একই গ্রামের জয়নুল হক ধন মিয়ার পক্ষের লোকজনের হামলায় হতাহতের এই ঘটনা ঘটে। একই দিন ইফতারের আগে সিলেট সদর উপজেলার মোগলগাঁও ইউনিয়নের লামারগাঁওয়ে মারা যান তেরা মিয়া নামে এক বৃদ্ধ। তেরা মিয়ার পরিবারের অভিযোগ, বাঁশ কাটা নিয়ে প্রতিবেশী নাজিম উদ্দিনের মারধরে তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তেরা মিয়ার পরিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ ছাড়া ৬ মে ঘরের চাল থেকে বৃষ্টির পানি পড়া নিয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা ইউনিয়নের নালবহর গ্রামে প্রতিবেশী দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষে আবদুর রউফ নারে এক বৃদ্ধ মারা যান। প্রতিবেশি কয়েছ আহমদের পরিবারের সাথে আবদুর রউফের পরিবারের সংঘর্ষের এই ঘটনায় আরও অন্তত ১২ জন আহত হন।  সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান বলেন, ‘সরকারি ছুটি আর লকডাউনের কারণে অন্যান্য অপরাধ কমলেও সামাজিক সহিংসতা বেড়েছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানুষ মারামারিতে লিপ্ত হচ্ছে। সামাজিক এ অস্থিরতা দূর করতে পুলিশের পাশাপাশি সমাজসচেতন মানুষদেরও এগিয়ে আসতে হবে। সামাজিক সহিংসতা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শামীমা শারমিন বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষ ঘরে আবদ্ধ থাকতে অভ্যস্ত নয়। দীর্ঘ সময় ধরে লকডাউন চলায় মানুষের ¯œায়ুচাপ বেড়েছে। অনেকে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না বলেই তুচ্ছ বিষয়ে সহিংসতা ঘটছে।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর