শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৩১

বিধিবহির্ভূত ভবন নির্মাণ চলছেই

নোটিস দিয়েই দায় সারছে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

বিধিবহির্ভূত ভবন নির্মাণ চলছেই

ভবন নির্মাণের আগে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) কাছ থেকে নকশা অনুমোদন করিয়ে আনছেন নির্মাতারা। কিন্তু ভবন নির্মাণের সময় সেই নকশা অনুসরণ করছেন না বেশির ভাগ নির্মাতা। রাজশাহী নগরীতে এভাবে অসংখ্য ভবন গড়ে উঠছে। অভিযোগ পেলে আরডিএ ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিচ্ছে। কিন্তু একটি ভবনও অদ্যাবধি ভাঙা হয়নি। আরডিএ কর্মকর্তারাও কখনো নকশা লঙ্ঘন করা ভবন ভাঙতে অভিযান চালান না। অভিযোগ আছে, আরডিএ কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই চলছে এ জাতীয় ভবন নির্মাণকাজ। ফলে পরিকল্পিত নগরীর যে পরিকল্পনা আরডিএ করছে, তা দুষ্কর। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে আরডিএর কাজ কি? নগরীর উপশহর হাউজিং এস্টেটের ১ নম্বর সেক্টর ঘুরে দেখা যায়, পুরনো বাড়িগুলো একটি নির্দিষ্ট নিয়মে নির্মাণ করা হয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, ১০-১৫ বছর ধরে উপশহর হাউজিং এস্টেটের ১ নম্বর সেক্টরের বাড়িগুলো মধ্যে তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে নির্মিত হয়ে আসছে। প্রত্যেক বাড়ির মালিক দেড় ফুট করে জায়গা ছেড়ে বাড়ি নির্মাণ করে আসছেন। ফলে এই নিয়ম মেনেই এখানকার বাড়িগুলো তৈরি হয়েছে। আরডিএর নীরবতা এটাকে বৈধতা দিয়েছে। নগরবাসীর অভিযোগ, পাঁচতলার অনুমোদন নিয়ে সাততলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। সাততলার অনুমোদন নিয়ে ১০ তলা ভবনও বানাচ্ছেন অনেকে। ইমারত বিধিমালা উপেক্ষা করে সড়ক ঘেঁষে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ভবনের উচ্চতা অনুযায়ী রাস্তা ও ফাঁকা জায়গা ছাড়ার নির্দিষ্ট বিধি মানা হচ্ছে না। এ ব্যাপারে আরডিএর সংশ্লিষ্ট বিভাগের কোনো তদারক নেই। আরডিএর অথরাইজড অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর আরডিএর পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়। নিয়ম না মানলে তাদের ভবন নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। তবে জনবল সংকটের কারণে অনেক সময় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। নগরীতে নতুন নতুন বহুতল ভবন হচ্ছে। ইমারত বিধি লঙ্ঘনেরও অনেক অভিযোগ আসছে বলে জানান তিনি।

নগরীর লক্ষ্মীপুরে ১৩ তলার অনুমোদন নিয়ে ভবন নির্মাণ করছে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার। মাটির নিচে তিন তলাসহ ১৩ তলা ভবনটির কাজ শেষ হয়েছে। মূল ভবনের নির্মাণের সময় পাশের চৌরঙ্গী মসজিদ ভবন হেলে পড়েছে। ভবনটি পাশের সেঞ্চুরি আবাসিক হোটেল ভবন ও দুটি ভবনের গায়ে হেলে পড়ে। তিনটি ভবনে ফাটল ধরায় সংশ্লিষ্ট ভবন মালিক ও মসজিদ কমিটি আরডিএ চেয়ারম্যানের লিখিত অভিযোগ করেছেন।

পপুলারের ভবন নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার আবেদন জানান তারা। কিন্তু আরডিএ এখনো নীরব।

নগরীর রাজপাড়া এলাকায় আবদুস সামাদ ভবন নির্মাণ করছেন অনুমোদন না নিয়েই। অভিযোগ পেয়ে প্রথমে নির্মাণকাজ বন্ধ করলেও এখন আবারও সেখানে ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। হড়গ্রাম এলাকার গোলাম নবী অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন নির্মাণ করছেন। আরডিএ তাকে নোটিসও করেছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ঠিকই ইচ্ছামতো ভবন নির্মাণ শেষ করেছেন গোলাম নবী। মহিষবাথান এলাকার আবুল হোসেন মোল্লা অনুমোদন না নিয়েই দোতলা ভবন নির্মাণ করেছেন। তাকেও নোটিস দিয়েছিল আরডিএ। কিন্তু ভবন নির্মাণ বন্ধ করতে পারেনি।

২ ফেব্রুয়ারি অ্যাডভোকেট এ কে এম শওকত উদ্দিন আরডিএর অথরাইজড কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তিনি জানান, রাজপাড়ায় অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ নিয়ে একাধিক অভিযোগ করার পরও কোনো কাজ হয়নি। নোটিস দিয়েই দায় সারছে কর্তৃপক্ষ।

লক্ষ্মীপুর এলাকায় ২২ তলা ডক্টরস ভবন নির্মাণের সময় পাশের ভবনে ফাটল দেখা দেয়। এ কারণে ভবনটির নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল। ইমারত বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আরডিএ ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনে প্রতিদিন একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়ছে। এসব অভিযোগের মধ্যে আছে- রাস্তার জন্য জায়গা না ছেড়ে ভবন নির্মাণ। ১০ ফুট সড়কের পাশে চার তলার জায়গায় সাত থেকে ১০ তলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। অভিযোগ, তালাইমারীতে পুকুর ভরাট করে বাসভবন নির্মাণ করেছেন আরডিএর সাবেক চেয়ারম্যান বজলুর রহমান। প্রথমে তিনি তিন তলা ভবন নির্মাণ করেন। পরে আরডিএর চেয়ারম্যান হলে আইন লঙ্ঘন করে তিনি ছয় তলার নকশা অনুমোদন করে নেন।

আরডিএর অথরাইজড অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর আরডিএর পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়। নিয়ম না মানলে তাদের ভবন নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। তবে জনবল সংকটের কারণে অনেক সময় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। নগরীতে নতুন নতুন বহুতল ভবন হচ্ছে। ইমারত বিধি লঙ্ঘনেরও অনেক অভিযোগ আসছে বলে জানান তিনি।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর