শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৮ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ মার্চ, ২০২১ ২৩:৪৭

মনোনয়ন চান আওয়ামী লীগের সবাই কেন্দ্রের দিকে চেয়ে বিএনপি-জাপা

সিলেট-৩ আসনে উপ নির্বাচন নিয়ে ফের সরগরম রাজনীতি

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট

সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর মৃত্যুতে শূন্য হওয়া সিলেট-৩ আসনে উপনির্বাচন হবে। এখনো তফসিল ঘোষণা করা হয়নি। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা চষে বেড়াচ্ছেন এলাকা। প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকরাও চালাচ্ছেন প্রচারণা। প্রচারণার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। দলটির প্রায় একডজন নেতা লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া উপনির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে কেন্দ্র থেকে কী সিদ্ধান্ত আসে সেদিকে তাকিয়ে আছেন বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। আর জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ভর করছে মহাজোটের সিদ্ধান্তের ওপর। মহাজোট থেকে আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া হলে, নির্বাচন করতে চান দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

করোনা আক্রান্ত হয়ে গত ১১ মার্চ মারা যান মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী। এরপর থেকে গত নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিতরা উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন লাভের আশায় মাঠে নামেন। সঙ্গে যোগ দেন আরও অনেক নতুন মুখ। দলীয় প্রতীক নৌকা পেলেই উপনির্বাচনে জয়ী- এমন আশায় তারা স্থানীয় নেতাদের সমর্থন আদায়ের পাশাপাশি কেন্দ্রেও তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) কেন্দ্রীয় মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাংবাদিক শাহ মুজিবুর রহমান জকন, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু জাহিদ, যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি স্যার এনাম উল ইসলাম, ডাকসুর সাবেক সদস্য মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট দেওয়ান গৌস সুলতান, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব মন্টু। এছাড়াও সিলেট-৩ আসনভুক্ত এলাকার না হলেও উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে আলোচনায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম লীর সদস্য ইনাম আহমদ চৌধুরী ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী।

এর মধ্যে গেল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর সঙ্গে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ও হাবিবুর রহমান হাবিব। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও তারা নির্বাচনের পর এলাকায় সক্রিয় ছিলেন। হাবিবুর রহমান হাবিব এলাকায় দলীয় নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করার পাশাপাশি ও করোনাকালে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশংসা কুড়ান। এ ছাড়া ওই আসনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে তিনি প্রায় একদশক ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর মৃত্যুতে মনোনয়ন লড়াইয়ে এবার এগিয়ে রয়েছেন হাবিব। শাহ মুজিবুর রহমান জকন গেল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে নির্বাচন করেন। দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে তিনি পরাজিত হলেও মাঠ ছাড়েননি। সরকারি চাকরিতে থাকায় বিএমএ’র মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী গেল নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাননি। বর্তমানে চাকরি থেকে অবসর নেওয়ায় তিনি উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চান। দলীয় মনোনয়ন পেলে তিনি নির্বাচন করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন। তার বড় ভাই ইনামুল হক চৌধুরী দুই দুবার সংসদ সদস্য ছিলেন। ইনাম আহমদ চৌধুরী এই আসনভুক্ত এলাকার বাসিন্দা না হলেও সিলেটের উন্নয়নে কাজ করার আগ্রহ থেকে উপনির্বাচনে অংশ নিতে চান। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা তাকে কাজে লাগাতে চাইলে তিনি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছেন বলে জানিয়েছেন।

শফিকুর রহমান চৌধুরী সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য থাকাকালে তার নির্বাচনী আসনভুক্ত ছিল বর্তমান সিলেট-৩ আসনভুক্ত বালাগঞ্জ উপজেলা। এই উপজেলায় শফিকুর রহমান চৌধুরী ও আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংকও রয়েছে। তাই উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে তার নামও আলোচিত হচ্ছে।

তবে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শেষ পর্যন্ত মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর পরিবারের পক্ষ থেকে তার স্ত্রী ফারজানা চৌধুরী দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারেন। ফারজানা প্রার্থী হলে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা একজোট হয়ে নির্বাচনে কাজ করবেন- এমন ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে দলীয় একাধিক সূত্র থেকে।

এদিকে, কেন্দ্র থেকে সবুজ সংকেত পেলে উপনির্বাচনে অংশ নিতে চায় বিএনপিও। আসনটিতে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমদ চৌধুরী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী। শফি আহমদ চৌধুরী গত নির্বাচনের পর থেকে ঢাকায় অবস্থান করলেও কাইয়ূম চৌধুরী দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগকে আসনটি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানাবে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে রয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিক ও জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব উসমান আলী।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর