শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৬ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ মে, ২০২১ ২৩:৫৫

রাজশাহীতে চাকরি দেওয়ার নামে ২৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

Google News

সরকারি হাসপাতাল ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রলোভন দিয়ে ২৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চক্রটি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল, নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডে (নেসকো) চাকরি দেওয়ার নামে ১১ জনের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় নগদ টাকা, চেক ও স্ট্যাম্পে টাকাগুলো নিয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় রাজশাহী টেকনিক্যাল প্রশিক্ষণ সেন্টারের (টিটিসি) ডরমেটরি কক্ষ থেকে সুরাইয়া সুলতানা ও তার ভাই কো-অর্ডিনেটর জাহাঙ্গীর আলমকে আটক করে পুলিশ। তারা কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা এলাকার আশরাফুল আলমের সন্তান। সেই রাতেই তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়। এর আগে গত ১৯ মে প্রশিক্ষণার্থীদের থাকার জন্য টিটিসির ডরমেটরির কয়েকটি কক্ষ ভাড়া নেন তারা। সেখানে কুষ্টিয়ার তিনজন প্রশিক্ষণার্থী ছাড়াও রাজশাহীর কয়েকজন ছিলেন।

প্রতারকদের কক্ষ ভাড়া দেওয়ায় টিটিসির ইন্সট্রাক্টর আয়ুব উল্লাহকে কারণ দর্শানের নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন টিটিসির অধ্যক্ষ প্রকৌশলী এস এম এমদাদুল হক। এ বিষয়ে ইন্সট্রাক্টর আয়ুব উল্লাহ বলেন, আমাকে কারণ দর্শানের নোটিস দেওয়া হয়েছে। আমি জবাব দেব।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রটি প্রার্থীদের রামেক হাসপাতাল, নেসকোসহ বিভিন্ন বড় বড় প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নিয়েছে। ১১ জন প্রার্থীর কাছ থেকে ৩ থেকে ৫ লাখ করে টাকাও নিয়েছে। টাকা দেওয়ার বিষয়টি কারও সঙ্গে মৌখিক, চেক, ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ও স্ট্যাম্পে লিখিত আছে। তবে স্ট্যাম্পে লেখা আছে ঋণ হিসেবে। চক্রটি নিয়োগপত্র দিলেও চার থেকে পাঁচ মাস পরে কর্মস্থলে যোগদান দিতে পারেননি। এতে প্রার্থীরা ক্ষিপ্ত হলে রামেকের পরিবর্তে নেসকোতে মিটার রিডার হিসেবে চাকরির কথা বলে।

প্রতারকরা প্রার্থীদের জানান, নেসকোতে চাকরির জন্য প্রশিক্ষণ নিতে হবে ৬০ দিনের। এমন শর্তে রাজি হন প্রার্থীরা। থাকা ও প্রশিক্ষণ ভেন্যু ঠিক করা হয় টিটিসিতে।

প্রতারিত মোকলেসুর রহমান ৩ লাখ, হুমায়ুন কবীর ১ লাখ, নূর আলম ১ লাখ ৫০ হাজার, আলমগীর ১ লাখ, মোশাররফ হোসেন ২ লাখ ৫০ হাজার, মোস্তাফিজুর রহমান ২ লাখ ৫০ হাজার, মতিউর রহমান ২ লাখ ৫০ হাজার ও মঈন উদ্দীন মানিক ৭ লাখ ৭১ হাজার টাকা দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী হুমায়ুন কবীর জানান, রামেকের একজন কর্মচারী মাইনুদ্দিন মানিকের মাধ্যমে জানতে পারেন অফিস সহায়ক হিসেবে পরিচয়দানকারী সুরাইয়া সুলতানার কথা। মানিক নিজের ভাইয়ের জন্যও টাকা দিয়েছেন সুরাইয়াকে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, প্রতারণার ঘটনায় মামলা হয়েছে দুজনের নামে। এ ছাড়া অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর