শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ জুলাই, ২০২১ ২৩:৩২

চট্টগ্রামে আইসিইউর জন্য হাহাকার

মায়ের মৃত্যুতে শূন্য শয্যায় স্থান হলো ছেলের

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে আইসিইউর জন্য হাহাকার
Google News

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটের ১৬ নম্বর শয্যায় মৃত্যুর সঙ্গে যুদ্ধ করছেন নগরের দেওয়ান বাজার এলাকার কানন প্রভা পাল। এক সপ্তাহ পর পাশেই আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় তার ছেলে শিমুল পালকে। তিনিও মুখে অক্সিজেন মাস্ক নিয়ে লড়ছেন করোনার সঙ্গে। এরই মধ্যে শিমুলের জন্য জরুরিভিত্তিতে প্রয়োজন হয় আইসিইউ সাপোর্ট। কিন্তু হাসপাতালে খালি নেই  কোনো শয্যা। নগরের সরকারি তিনটি ও বেসরকারি সাতটি হাসপাতালে হন্যে হয়ে ঘুরেও মিলেনি সেই সোনার হরিণ একটি আইসিইউ শয্যা। অবশেষে গতকাল বিকাল ৩টার দিকে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন মা। মায়ের শূন্য শয্যায় ভর্তি করা হয় সংকটাপন্ন ছেলেকে। কানন প্রভা পালের ভাই টিটন পাল বলেন, হাসপাতালে মায়ের সঙ্গে থাকতে থাকতে ছেলে শিমুল পালও আক্রান্ত হয়। কিন্তু এরই মধ্যে আমার বোনের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়। অনেক চেষ্টা-তদবিরে একটি আইসিইউ শয্যা মেলে। কয়েকদিন আইসিইউতে থাকার পর বোনের সন্তানের অবস্থাও সংকটাপন্ন হয়। তার জন্যও প্রয়োজন হয় আইসিইউর। পুরো চট্টগ্রাম ঘুরেও পাওয়া যায়নি। গতকাল বিকালে  মারা যান বোন। বোনের খালি হওয়া আইসিইউ শয্যায় ভর্তি করা হয় ভাগিনাকে। চট্টগ্রামে এখন আইসিইউ এবং উচ্চ মাত্রার অক্সিজেন সংকট চরম পর্যায়ে ঠেকেছে। ফলে আইসিইউ-অক্সিজেন সংকটে মৃত্যু বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ ও সাধারণ কোনো শয্যাই খালি নেই। হন্যে হয়ে খুঁজেও একটি আইসিইউ মিলছে না। হাহাকার চলছে একটি শয্যার জন্য। বর্তমানে চট্টগ্রামে সরকারি বেসরকারি শয্যা ১ হাজার ২২৭টি সাধারণ শয্যা এবং ১০৬টি আইসিইউ শয্যায় চিকিৎসা চলছে।  ইউএসটিসির মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোহাম্মদ জাবেদ বলেন, চট্টগ্রাম এখন আক্রান্ত এবং মৃত্যু দুই দিকেই রেকর্ড। ঈদের পর গত তিন দিনের চেম্বারের ৯০ শতাংশ রোগীই কভিড অথবা লক্ষণযুক্ত। পরিবারের এক বা দুজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না, পুরো পরিবারই আক্রান্ত হচ্ছে। এটি লক্ষণ দেখার সঙ্গে সঙ্গেই নিজেকে আলাদা না করা কিংবা কভিড হয়েছে এটা মেনে নিতে না পারার মানসিকতার প্রতিফলন। শিক্ষিত ও সচেতন অনেকের মধ্যেও এমন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আমরা এখনো মাস্ক পরাকে অভ্যাসে পরিণত করিনি, দূরত্ব বজায় রাখতে শিখিনি। ফলে সংক্রমণ-মৃত্যু দুটোই বাড়ছে। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, গত সোমবার একদিনেই চট্টগ্রামে ১ হাজার ৩১০ জন আক্রান্ত এবং ১৮ জনের মৃত্যু হয়। দুটিই রেকর্ড। তবুও মানুষকে সচেতন করতে সরকার কঠোরতা প্রদর্শন করলেও অনেকের মধ্যে বেপরোয়া মনোভাব দেখা যায়। এটি কোনো মতেই উচিত নয়। এখনকার করোনা খুব দ্রুত সংক্রমণ করে রোগীকে খারাপ করে দিচ্ছে। ফলে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বিকল্প নেই। সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামে গত সোমবার ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৮ জন এবং নতুন করে শনাক্ত হয় ১ হাজার ৩১৩ জন। গত সোমবার পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট আক্রান্ত হন ৭৭ হাজার ৫২১ জন। এর মধ্যে মহানগরে ৫৮ হাজার ৩২৩ জন এবং উপজেলায় ১৯ হাজার ১৯৮ জন। ইতিমধ্যে মারা গেছেন ৯১৫ জন। এর মধ্যে মহানগরে ৫৫৪ জন ও উপজেলায় ৩৬১ জন। চট্টগ্রামে সরকারি-বেসরকারি ১১টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা চলছে।

 

এই বিভাগের আরও খবর