শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৭ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ আগস্ট, ২০২১ ২৩:৪৫

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল

‘ভাই, তোরা বেঁচে থাকলে ১৫ দিন পর আবার দেখা হবে’

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

Google News

‘ভাই, তোরা বেঁচে থাকলে ১৫ দিন পর আবার দেখা হবে। আবার অ্যাপ্রোন/পিপি পরে ডাক্তারের পোশাক জড়িয়ে রোগীদের মাঝে আমরা ফিরে আসব।’ চট্টগ্রামে করোনা রোগীর চিকিৎসায় ডেডিকেটেড জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের রুমের নোটিস বোর্ডে লেখাটি টাঙানো। ১৫ দিন শিফটের দায়িত্ব শেষ করে টিম ‘এ’ টিম ‘বি’র উদ্দেশে শুভ কামনা করে এমন মর্মস্পর্শী লেখাটি লিখে যায়। তা ছাড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ‘থ্যাঙ্ক ইউ ওয়ারিয়র্স, ফর ইউর কন্টিনিউয়াস সাপোর্ট, ডেডিকেশন অ্যান্ড সেক্রিফাইস’ লিখে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জানা যায়, গত বছর মার্চে করোনার প্রকোপ শুরু হলে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১০০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু হয়। এরপর রোগী বাড়লে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। গত বছরের এপ্রিলেই নতুন করে যুক্ত হয় ১০টি আইসিইউ এবং পরে আরও আটটি। তা ছাড়া গত মাসে যুক্ত করা হয় আট শয্যার হাই ডিপেনডেনসি ইউনিট (এইচডিইউ)। বর্তমানে সব মিলিয়ে হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা চলছে ২০০ শয্যায়। তা ছাড়া করোনা রোগীর চাপের কারণে গত ৬ এপ্রিল থেকে হাসপাতালের আউটডোরে রোগী দেখা বন্ধ রয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৬০ জন চিকিৎসক পদায়ন করা হয়। অন্যদিকে জেনারেল হাসপাতালের দ্বিতীয় ইউনিট হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালে আইসোলেশনের ৬০টি শয্যা, ছয়টি আইসিইউ শয্যা ও ছয়টি এইচডিইউ শয্যা পরিচালিত হচ্ছে। এখানে আছেন ১০ জন চিকিৎসক।  পাঁচজনের টিম ১৫ দিন করে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। আছেন ১৬ জন নার্স। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আহমেদ তানজিমুল ইসলাম বলেন, রোগী বেড়ে যাওয়ায় ১৮ শয্যার আরেকটি করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।

সেখানেও কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা আছে। তা ছাড়া চালু করা হয়েছে আট শয্যার এইচডিইউ। চিকিৎসকরা পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে অনেকে সংক্রমিতও হচ্ছেন। তবে সব চিকিৎসক-নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিষ্ঠার সঙ্গে পালাবদল করে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

হাসপাতালের কনসালট্যান্ট (মেডিসিন) ডা. এইচ এম হামিদুল্লাহ মেহেদী বলেন, ‘দেড় বছর ধরে আইসোলেশন ওয়ার্ডের চিকিৎসকরা শিফটিং দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অনেক চিকিৎসক এবং পরিবার আক্রান্ত। তবু আমরা রোগীর সেবা অব্যাহত রেখেছি।’

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, জেনারেল হাসপাতালের রোগীর স্বার্থে সব সিনিয়র চিকিৎসককে পদায়ন করা হয়েছে। তা ছাড়া উপজেলা পর্যায়ের ৬০ জন চিকিৎসকও কর্মরত আছেন। করোনাকালে জেনারেল হাসপাতাল রোগীদের সেবায় অন্য রকম ভূমিকা রেখে চলেছে।