মঙ্গলবার, ৩১ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা
গুম দিবসে মায়ের ডাকের আলোচনা সভা

অব্যাহত গুমে অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক গুম দিবসে ‘মায়ের ডাক’-এর উদ্যোগে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, গুমের অব্যাহত পরিস্থিতিতে দেশ অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে। দেশে এখন রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মাধ্যমে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যা হচ্ছে। এটা রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের চরম বহিঃপ্রকাশ। নিপীড়নকারী রাষ্ট্র শুধু গুম বা ক্রসফায়ারের মতো হত্যাকান্ডই ঘটায় না, সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভিন্নমত ও শাসকচক্রের স্বার্থবিরোধিতাকে তারা নিশ্চিহ্ন করে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় গুম, হেফাজতে নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের নিরাপত্তা বিঘিœত হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো নানাভাবে রাষ্ট্রের রোষানলে পড়ছে। তাই একটি ন্যায়ভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভিকটিম পরিবারগুলোকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের জনগণকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। গতকাল গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে ‘মায়ের ডাক’-এর উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাব অডিটোরিয়ামের আলোচনা সভায় গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের উপস্থিতিতে তিনি এসব কথা বলেন। গুম হওয়া সাজেদুল ইসলাম সুমনের বড় বোন মারুফা ইসলাম ফেরদৌসির সভাপতিত্বে এবং বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসার সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, নূর খান লিটন, অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ গুম হওয়া পরিবারের সদস্যরা।

 স্বাগত বক্তব্য দেন মায়ের ডাকের সমন্বয়কারী আফরোজা ইসলাম আঁখি।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘দেশ এখন দুঃশাসনে ডুবে গেছে। আন্দোলন ছাড়া চোখের জল এ সরকারের গদি নড়াতে পারবে না। প্রতি বছর এখানে এলেই স্বজনদের কান্না দেখি। কান্না কোনো সমাধান নয়। আন্দোলনই এ সরকারের পতন নিশ্চিত করতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘দুর্নীতিতে সারা দেশ ছেয়ে গেছে। করোনার সময়ও যারা দুর্নীতি করেছে তাদের সেভাবে বিচার করতে পারছে না। কারণ দুর্নীতির ওপর ভর করেই জনগণের ভোট ছাড়া এ সরকার ক্ষমতায় রয়েছে।’

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ২০০৬ সালের ২০ ডিসেম্বর গুম হওয়া থেকে সব ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক কনভেনশন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়। এ দিন সামনে রেখে গুম হওয়া ব্যক্তিদের শতাধিক পরিবারের স্বজনরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সমাবেশ, মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছেন। এসব অনুষ্ঠানে তারা গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণ করেন। একই সঙ্গে গুমের শিকার ব্যক্তিদের তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ারের নামে নাগরিকদের বিচারবহির্ভূত হত্যা ও হেফাজতে নির্যাতনসহ সব রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন বন্ধের দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের প্রতিটি পরিবারের গল্পই প্রায় এক। সবার একটিই চাওয়া- ফিরে আসুক তাদের প্রিয় স্বজন। গুমের শিকার ব্যক্তিদের কাউকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাকে, আবার কাউকে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ করেছে পরিবারগুলো। তদন্ত কমিশন গঠন করে গুমের প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

এই বিভাগের আরও খবর