রবিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা
বিদেশে রপ্তানি বন্ধ হওয়ায় হতাশ কৃষক

ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পান

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পান

বিদেশে পান রপ্তানি বন্ধ হওয়ায় দেশে পানের দরপতনে হতাশ ঝিনাইদহের পান চাষিরা। ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গায় উৎপাদিত পানের একটা বড় অংশ দেশের বাইরে যেত। সালমনিয়া রোগের কারণে বর্তমানে বিদেশে পান রপ্তানি বন্ধ; যে কারণে দেশে পানের দাম পড়ে গেছে। বর্তমানে দেশের সব জেলায় কম-বেশি পান চাষ হচ্ছে। এবার অতিবৃষ্টির কারণে পান ভালো হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ নেই বললেই চলে। ফলে এবার পানের দাম খুবই কম। গত দুই বছর করোনার কারণে পানের চাহিদা কম আর রপ্তানি না হওয়ায় পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পান। এ অবস্থায় উৎপাদন খরচও উঠছে না বলে জানিয়েছেন চাষিরা। ঝিনাইদহের বিভিন্ন উপজেলার হাটে সর্বোচ্চ ভালো মানের পান ৪০ আর সর্বনিম্ন ৫ টাকা পণ দরে বিক্রি হচ্ছে। জেলার ভাটই, কুলচারা, বিন্নি, পোড়াহাটী, মান্দিয়া, হলিধানী, ডাকবাংলা, হরিণাকুণ্ডু উপজেলার আমতলা, জিন্দারের মোড়সহ বিভিন্ন হাটে পান কম দামে বিক্রি হচ্ছে। সরেজমিনে ঝিনাইদহ শহরের নতুন হাটখোলা পান বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি পণ পান সর্বোচ্চ ৪০ আর সর্বনিম্ন ৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গত বছর ২০০ টাকার ওপরে ছিল। পানের দরপতনে হতাশ জেলার চাষিরা। হরিণাকুণ্ডু উপজেলার পোলতাডাঙ্গা গ্রামের পান চাষি আবুল হোসেন বলেন, ‘১ বিঘা জমিতে পান আবাদ করতে বর্তমানে খরচ হচ্ছে ৩ লাখ টাকার ওপরে। কিন্তু দাম কম হওয়ায় আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।’

একই উপজেলার তাহেরহুদা গ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পানের দাম ভালো পেতে এখন সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। ভারত থেকে পান আনা বন্ধ করতে হবে আর বিদেশে পান রপ্তানি বাড়াতে হবে।’

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার রাজনগর গ্রামের পান চাষি আবদুল লতিফ বলেন, ‘গত দুই বছর করোনার কারণে পান বিক্রি কম হয়েছে। আমরা পান বিক্রি করতে পারিনি। আর এখন বিক্রি হলেও দাম কম পাচ্ছি। এভাবে চলতে থাকলে পানের আবাদ বন্ধ করে অন্য আবাদ করা লাগবে।’

ভবানীপুর গ্রামের পান চাষি মজনু জানান, আমেরিকা, ইংল্যান্ড, সৌদি আরব, কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশে পান রপ্তানি হতো। বর্তমানে পান রপ্তানি হচ্ছে না। ফলে এবার পানের দাম কম।

ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আজগর আলী বলেন, ‘সালমনিয়া রোগের কারণে বর্তমানে বিদেশে পান রপ্তানি বন্ধ। যার ফলে পানের দাম পড়ে গেছে। চাষি ভাইদের পানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। পান চাষিরা যেন সিন্ডিকেটের কবলে না পড়েন এজন্য নিয়মিত বাজার পরিদর্শন করছি। আর কৃষি বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে বিদেশে পান রপ্তানি বাড়ানোর ব্যাপারে কথা চলছে।’

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর