মঙ্গলবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা
রাজশাহী শিশু হাসপাতাল

কাজ শেষ হবে কবে

কাজী শাহেদ, রাজশাহী

কাজ শেষ হবে কবে

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপ কমাতে একটি আলাদা হাসপাতালের উদ্যোগ নেয় সরকার। ২০১৫ সালে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজও শুরু হয়। কিন্তু তিন দফা মেয়াদ বাড়িয়ে ছয় বছরেও শিশু হাসপাতাল নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ ঠিকাদার নিয়োগ করে কাজটি করছে। নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখন শিশু রোগীদের ঠাসাঠাসি। প্রশ্ন উঠছে, কবে শেষ হবে শিশু হাসপাতালের নির্মাণকাজ? গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নগরীর টিবিপুকুর এলাকায় এই হাসপাতালের পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করতে ২০১৫ সালের মে মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ১৩ কোটি টাকার এই কাজটি পায় ‘হোসেন এন্টার প্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৮ সালের জুন মাসে। ওই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রথমে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। ওই সময়েও কাজ শেষ না হওয়ায় ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত দ্বিতীয়বারের মতো প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ে। তৃতীয় ধাপে আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পের মেয়াদ। এতেও কাজ শেষ হয়নি। দফায় দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির সময় ব্যয় বেড়েও দাঁড়িয়েছে ২৩ কোটি টাকায়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বলছে, এ পর্যন্ত ৯৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজও দ্রুত শেষ হবে।

 নির্মাণ কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম বলেন, নির্মাণের শুরুতেই অনেক সময় চলে গেছে। তাই সময়মতো নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। তবে খুব দ্রুতই কাজ শেষ হবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হোসেন এন্টার প্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবদুর রশিদ বলেন, গণপূর্ত বিভাগ কাজ বুঝিয়ে দিতেই দেরি করেছে। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা যায়নি। তিনি বলেন, কাজ শুরুর পরও নকশা পরিবর্তন হয়েছে। হাসপাতাল ভবনটি হবে ১০ তলা। এখন হচ্ছে ৫ তলা। আমরা ৫ তলারই কাজ পেয়েছি। প্রথম নকশায় ভবনটি ছিল ১৬ হাজার স্কয়ার ফুট। এটি পরিবর্তন করে ২৪ হাজার স্কয়ার ফুট করা হয়।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘আমাদের শিশুবিভাগে এখন প্রচুর রোগী থাকে। তাদের চিকিৎসায় হিমশিম খেতে হয়। তাই দ্রুত শিশু হাসপাতালটির নির্মাণ শেষে চালু করা দরকার। তাহলে আলাদা শিশু হাসপাতালে শিশুরাও যেমন ভালো চিকিৎসা পাবে, তেমনি আমাদের এখানেও অন্য রোগীদের আরও ভালো চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।’

রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শিশু হাসপাতালের কাজ শুরুর আগে জায়গাটি বস্তি ছিল। সেগুলো সরাতে সময় লেগেছে। এখন যা কাজ আছে তা খুব কম। খুবই অল্প সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর