শনিবার, ২১ মে, ২০২২ ০০:০০ টা

ঘুরে দাঁড়িয়েছেন বগুড়ার ফুল ব্যবসায়ীরা

আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া

ঘুরে দাঁড়িয়েছেন বগুড়ার ফুল ব্যবসায়ীরা

করোনার ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন বগুড়ার ফুল ব্যবসায়ীরা। গত দুই বছরে করোনায় প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষতি হয় ফুল চাষি ও ফুল ব্যবসায়ীদের। এ ক্ষতি কাটিয়ে সবেমাত্র নতুন করে সুবাস পেতে শুরু করেছেন তারা।

জানা যায়, বগুড়ায় কৃষিতে নতুন সংযোজন ফুল চাষ। ফুল চাষ করে লাভবান হওয়ার পর থেকে বগুড়ায় এর চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ শুরু হয়েছে। বগুড়ায় চাষকৃত ফুল দিয়ে অর্ধেক চাহিদা পূরণ হচ্ছে। এতে স্থানীয় চাষিদের পাশাপাশি ক্রেতা ও বিক্রেতা হচ্ছে লাভবান। জেলার সোনাতলা উপজেলায় ৫টি গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ হচ্ছে। একই সঙ্গে জেলা সদরের মহাস্থানগড় এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে ফুল ও ফুল গাছের চাষ শুরু হয়েছে অনেক আগেই। সেগুলো বিভিন্ন এলাকায় ফেরি করে বিক্রি শুরু হয়।

নব্বই দশকে বগুড়া শহরের খোকন পার্কের সামনে স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী গোলাপ ফুল বিক্রি শুরু করেন। বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে এই ফুলের চাহিদা দিন দিন বাড়তে থাকে। পরে বগুড়া পৌরসভা ওই এলাকায় ১৭টি দোকান করে দেয়। এই ফুল ব্যবসায়ীরা যশোর থেকে কুরিয়ার সার্ভিস ও বাসে করে নিয়ে বগুড়ায় ফুল বিক্রি শুরু করেন। ২০০০ সালের দিকে ফুলের চাহিদা দিগুণ হয়ে যায়। তখন মহাস্থানগড়, শিবগঞ্জ, গাবতলী, সোনাতলা উপজেলায় গোলাপ ও গাঁদা ফুল চাষ শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে ফুল চাষিরা গোলাপ, গাঁদা, ভুট্টা, গ্ল্যাডিয়া, রজনীগন্ধা, দেশি ও হাইব্রিড, কামিনী ফুলের সঙ্গে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের পাতারও চাষ শুরু করে দেন।

বগুড়া শহরের ফুল মার্কেটের ফুল বিক্রেতা মুখলেছুর রহমান বাটু জানান, সোনাতলা উপজেলায় যে ফুল চাষ হয় তা দিয়ে স্থানীয়ভাবে বেশি লাভ পাওয়া যায়। আগে যশোর থেকে ফুল নিয়ে আসতে হতো। তখন খরচ পড়ত বেশি। এখন বগুড়ায় যে ফুল পাওয়া যায় সে ফুল বিক্রি করে লাভ বেশি পাওয়া যায়। বগুড়া জেলা ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও করতোয়া ফুল ঘরের মালিক অমিত দাস লক্ষণ বলেন, তাদের ফুল মার্কেটে ১৭টি দোকান রয়েছে। গড়ে প্রতিদিন প্রতিটি দোকানে ৫ হাজার টাকার ফুল বিক্রি করলেও এক দিনে দাঁড়ায় ৮৫ হাজার টাকা। এ হিসাবটি শুধু বগুড়া শহরের খোকন পার্কের ফুল মার্কেট ব্যবসায়ীদের। এর সঙ্গে প্রায় শতাধিক নার্সারি আছে যারা প্রতিদিন পাইকারি বাজারে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার ফুল বিক্রি করে থাকেন। বগুড়ায় প্রতিদিন লাখ টাকার ফুল বিক্রি হয়ে থাকে। করোনাকালীন দোকান বন্ধ থাকার পর ভালো ব্যবসা করায় তারা সবাই খুশি। ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ফুল বিক্রি হয় এ ফুল মার্কেটে। বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক দুলাল হোসেন জানান, জেলায় ৩০ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হয়ে থাকে। বগুড়ায় দিন দিন বাড়ছে ফুলের চাষ।

সর্বশেষ খবর