শিরোনাম
বুধবার, ২৫ মে, ২০২২ ০০:০০ টা

বন্যার পর ডায়রিয়ার হানা

মেডিকেল টিম নিয়োগ প্রতি ইউনিয়নে

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট

বন্যার পানি নামতেই সিলেটজুড়ে দেখা দিয়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। তবে বেশির ভাগ রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে এসে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। বাসাবাড়িতে থেকেই চলছে তাদের চিকিৎসা। বন্যার শুরু থেকে গতকাল পর্যন্ত জেলায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬৯ জনে। এর মধ্যে অর্ধশতাধিক বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি। বাকিরা বাসাবাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বন্যা-পরবর্তী ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ১৪০টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে একেকটি টিম। এ ছাড়া মাঠকর্মীরাও ডায়রিয়ার প্রকোপের তথ্য সংগ্রহ করছেন বলে জানিয়েছেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত। সিলেটজুড়ে দেখা দেওয়া বন্যার পানি প্রায় নেমে গেছে। বন্যার পানি নামতেই আক্রান্ত এলাকায় দেখা দিয়েছে পানিবাহিত নানা রোগ। বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট ও নোংরা পরিবেশের কারণে বন্যাকবলিত এলাকার লোকজনের মধ্যে ডায়রিয়াসহ নানারকম চর্মরোগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে উপজেলাগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে।  সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, বন্যার শুরু থেকে গতকাল পর্যন্ত জেলায় ডায়রিয়া ও চর্মরোগে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬৯ জন। এর মধ্যে ৩৬৩ জনই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। বন্যা আক্রান্ত এলাকায় যাতে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়তে না পারে সে জন্য পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও ওরস্যালাইন বিতরণ করা হচ্ছে। সিভিল সার্জন অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্যে আরও জানা গেছে, ডায়রিয়ার প্রকোপ যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায় সে জন্য জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে মেডিকেল টিম নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

জেলার ১৩টি উপজেলায় মোট ১৩৭টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। এ ছাড়া জেলা সদরে কাজ করছে আরও তিনটি টিম। সবমিলিয়ে গতকাল পর্যন্ত সিলেট জেলায় ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে নিযুক্ত ছিল ১৪০টি মেডিকেল টিম। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডায়রিয়া আক্রান্তদের বেশির ভাগই হাসপাতাল কিংবা চিকিৎসকের চেম্বারে গিয়ে ব্যবস্থাপত্র নিয়ে বাসায় চলে যাচ্ছেন। বাসায় থেকে তারা চিকিৎসা নিচ্ছেন। রোগীর অবস্থা খারাপ হলে ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। গতকাল পর্যন্ত সিলেট জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪৭ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি ছিলেন। এ ছাড়া ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন আরও চারজন।

এর বাইরে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল এবং বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তির খবর পাওয়া গেছে। সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত জানান, বন্যার কারণে সিলেটে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। তবে এখনো পরিস্থিতি ভয়াবহ বলা যাবে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে মেডিকেল টিম কাজ করছে। তবে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর কয়েকগুণ বেশি রোগী বাসাবাড়িতে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় জানান, বন্যার পর ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দেয়। বিশুদ্ধ পানির সংকট ও নোংরা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের কারণে ডায়ারিয়া ও চর্মরোগে লোকজন আক্রান্ত হন। সিলেটে এই পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায় সে জন্য প্রাণান্তকর চেষ্টা চলছে।

এই রকম আরও টপিক

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর