বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে খোবাইব হত্যা মামলায় হাই কোর্ট থেকে অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। গতকাল বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার কাজল ও শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ তাঁকে জামিন দেন। সেই সঙ্গে রুল জারি করে আদালত জানতে চান, কেন তাঁকে নিয়মিত জামিন দেওয়া হবে না? হত্যা, জালিয়াতি ও দুর্নীতির সাত মামলায় জামিনপ্রাপ্ত সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাই কোর্ট।
এক রিটে প্রাথমিক শুনানির পর ১৭ মে রুলসহ এ আদেশ দেওয়া হয়।
হত্যা, জালিয়াতি ও দুর্নীতির পাঁচ মামলায় হাই কোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর ৩০ মার্চ রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার দুটি হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে ১২ মে এ দুই মামলায়ও হাই কোর্ট তাঁকে জামিন দেন। এর আগে ২৮ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে দিয়ে আগের পাঁচ মামলার জামিনও বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। ফলে খায়রুল হকের কারামুক্তির পথ খোলে। কিন্তু নতুন মামলায় ফের তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৪ মে হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট করেন খায়রুল হকের ছেলে আশিক উল হক। সেই রিটে সাবেক প্রধান বিচারপতিকে গ্রেপ্তার ও হয়রানি না করার নির্দেশ এসেছিল উচ্চ আদালত থেকে। এরপর কারামুক্তির অপেক্ষার মধ্যে ২৩ মে খোবাইব হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় খায়রুল হককে। এ মামলায় ২১ জুন জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন ঢাকার একটি আদালত। পরে তিনি হাই কোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু ও সাঈদ আহমেদ রাজা। পরে আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ মামলায় জামিন হওয়ায় খায়রুল হকের কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই।’
দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর নিয়োগ পান খায়রুল হক। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর নিয়োগ কার্যকর হয়। পরের বছর ১৭ মে তিনি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসরে যান। ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই খায়রুল হককে তিন বছরের জন্য আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ মেয়াদ শেষে কয়েক দফা পুনর্নিয়োগ পান খায়রুল হক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আট দিন পর ১৩ আগস্ট তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। গত বছর ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তাঁকে একে এক আট মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সবকটিতেই তিনি এখন জামিনপ্রাপ্ত।