শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:৪৯

পঞ্চগড়ে বাড়ছে খুন ধর্ষণ উদ্বিগ্ন জেলাবাসী

সরকার হায়দার, পঞ্চগড়

পঞ্চগড়ে বাড়ছে খুন ধর্ষণ উদ্বিগ্ন জেলাবাসী

দেশের সর্বোত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, খুন, অপহরণ, চুরি, ছিনতাইসহ নানাবিধ অপরাধ বাড়ছে। প্রভাবশালীদের দ্বৈত ভূমিকা এবং একশ্রেণির দালালের কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে বলে সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন। এসব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে শিক্ষার্থী ও তরুণরা। সম্প্রতি গত দুই মাসে অন্তত ২০টি ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। অহরহ ঘটছে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা। আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ মাসে নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা হয়েছে ৫৯৪টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৯৩টি। বিচারাধীন রয়েছে ৪৮১টি। শিশু জুভেনাইল মামলা হয়েছে ১৭৯টি। নিষ্পত্তি হয়েছে ২৩টি। ১৫৬টি মামলা বিচারাধীন। তবে আদালতে বিচার কার্যক্রম দ্রুত গতিতেই সম্পন্ন হচ্ছে বলে জানালেন পঞ্চগড় জেলা দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন এসব ঘটনা বাড়লেও বিচার প্রক্রিয়া যথাযথভাবেই চলছে। অন্যদিকে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে জেলার পাঁচ থানার মধ্যে সদর থানায় ৫৯, দেবীগঞ্জ থানায় ৩৩, বোদা থানায় ৩২, তেঁতুলিয়ায় ১৮ এবং আটোয়ালী থানায় ৩৪টি  মোট ১৭৬টি এ ধরনের মামলা হয়েছে। অনেক ঘটনায় থানা এবং আদালতে মামলা হলেও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ভয়ে এবং  মীমাংসার জন্য দালালদের অবৈধ তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত মামলা তুলে নিতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে কাউকে আইনের দুয়ারেই যেতে দেয়া হচ্ছে না। তারা আসামিদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে প্রভাব খাটিয়ে মীমাংসার নাম  করে আসল ঘটনা চাপিয়ে রাখছেন । মীমাংসার জন্য বিচার প্রার্থীদের হুমকিও দিচ্ছেন এই দালাল চক্র। পঞ্চগড় পৌরসভার রামেরডাঙ্গা এলাকার একজন নারী ভুক্তভোগী জানান, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার মেয়েকে কয়েক বছর ধরে ধর্ষণ করা হয়। পরে বিয়ের কথা বললে ছেলে অস্বীকৃতি জানায়। পরে আমি সদর থানায় মামলা করি। এখন প্রতিদিন মীমাংসার জন্য চাপ দিচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী দালাল চক্র।  জেলা নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন সরকার জানান, এখন যে ঘটনাগুলো চোখে দেখছি তা ভফঙ্কর। আগে এমন কিছু দেখিনি। দালালদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। নারী শিশু নির্যাতন ও হত্যা মামলার মীমাংসার কোন আইন নেই বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার  ইউসুফ আলী। এসব ঘটনা ঘটলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি ।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর