শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ এপ্রিল, ২০২০ ২৩:২৫

৮৬৬ গরিবের চাল আত্মসাৎ

তিন বছর ধরে চলছে এই অনিয়ম!

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

৮৬৬ গরিবের চাল আত্মসাৎ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়েছে। ২০১৭ সাল থেকে শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের ৮৬৬ জন হতদরিদ্রের নাম সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে থাকলেও তারা ১০ টাকা কেজি দরে চাল পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি কর্মসূচির আওতায় তাদের নাম রয়েছে তাও তারা তিন বছর ধরে জানতে পারেননি। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ও চেয়ারম্যানের যোগসাজশে চালের ডিলার শরিফুল ইসলাম ও আশরাফুল ইসলাম হতদরিদ্রদের চাল অন্যত্র বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।  জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতিতে এলাকার গরিব-দুঃখী মানুষদের বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে সম্প্রতি পাঁকা ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে দুর্নীতির খবরটি জানতে পারেন জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হক। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ চাল দুর্নীতি তদন্তের নির্দেশ দেন। দোষী ডিলার ও খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে হতদরিদ্রদের কাছে কার্ড ও খাদ্য পৌঁছানোর কাজটা আগে করতে বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসন বলছে, পাঁকার চাল ডিলারের সঙ্গে খাদ্যবিভাগ ও ইউনিয়ন পরিষদের কারা জড়িত তাদের শনাক্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এদিকে দুই ডিলার ভুয়া কার্ড তৈরি করে চাল আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কার্ডগুলো ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তারা দিয়েছেন কি-না তারা জানেন না। সরেজমিন জানা গেছে, পাঁকা ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের ৮৬৬ জনের নামে ১০ টাকা কেজি চালের কার্ড রয়েছে। কিন্তু ডিলার আশরাফুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম তিন বছর ধরে এলাকার বিভিন্ন জনের নামে শত শত ভুয়া কার্ডে চাল তুলে তা বিক্রি করে এসেছেন। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্ডের তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেন। এতে হতদরিদ্র এসব মানুষ জানতে পারেন তাদের নামে কার্ড আছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিমুল আকতার জানান, ১০ টাকার কেজি চালের কার্ড নিয়ে বিস্তর অভিযোগ এখানে। তিনি সম্প্রতি যোগদান করে বিষয়টি জানতে পারেন এবং একটি পৌরসভা ও ১৫ ইউনিয়নের সব কার্ডধারীর তালিকা সরকারি ওয়েবসাইটে দেন। এরপর থেকে অভিযোগ আসছে। তিনি আরও বলেন, আপাতত আমরা প্রকৃত মালিকদের কাছে কার্ড ও খাদ্য পৌঁছানোর ব্যবস্থা করছি। যারা দীর্ঘদিন ধরে এ অপকর্ম করে এসেছে তারা কেউই ছাড় পাবে না।

শিবগঞ্জ উপজেলায় ২১ হাজার ৪২৫টি কার্ড রয়েছে। তিন মাস পর পর ৬৪৩ টন করে চাল বরাদ্দ আসে। প্রতি কার্ডের বিপরীতে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা। এসব বিতরণের জন্য উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার নেতৃত্বে প্রতিটি ইউনিয়নে তিন সদস্যের একটি তদারকি কমিটি আছে।

এদিকে পাকা ইউনিয়নের মহিলা সদস্য বিউটি খাতুন বলেন, তার কোটায় ৬০টি কার্ড থাকলেও তাকে সেসব কার্ড তিন বছরেও বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ফলে তার এলাকার কার্ডধারীরা কেউই চাল পাননি। অথচ তাদের নামে কার্ড রয়েছে। একই ইউনিয়নের তদারকি কমিটির সদস্য আইনজীবী আশফাকুর রহমান রাসেল জানান, তার এলাকার ডিলারের কোনো দোকান নেই। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে ডিলারদের গভীর লেনদেনের সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণেই ১০ টাকা কেজির চাল বিতরণে নজিরবিহীন অনিময় ও দুর্নীতি হয়ে আসছে। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা জান মোহাম্মদ জানান, ডিলারদের চাল সরবরাহ করা খাদ্য বিভাগের দায়িত্ব। ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের হাতে কার্ডগুলো সরবরাহ করা হয়েছে। তারা দিয়েছেন কি-না সেটা আমরা নিশ্চিত নই।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর