শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৪১

ভাতা পান না বীরপ্রতীক মকবুল!

মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা

ভাতা পান না বীরপ্রতীক মকবুল!

বীরপ্রতীক মো. মকবুল হোসেন। তিনি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের সহযোদ্ধা। মকবুল হোসেন মুক্তিযোদ্ধার ভাতা অনেক দিন পেলেও গত দেড় বছর থেকে তা পাচ্ছেন না। ৮০ বছরের বেশি বয়সী মকবুল হোসেন ভাতা পেলে আরও একটু ভালো চলতে পারবেন বলে জানান। তাঁর জন্ম কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ গ্রামে। ১৯৮৪ সাল থেকে বসবাস করছেন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার টাটেরা গ্রামে। তিনি ১৯৫৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সেনাবাহিনীতে  সৈনিক পদে যোগদান করেন। ছিলেন দশম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্য। তিনি ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধ, লাহোর প্রতিরক্ষা যুদ্ধ ও ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।  মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বঙ্গবন্ধু তাঁকে বীরপ্রতীক খেতাবে ভূষিত করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের অসংখ্য স্মৃতি রোমন্থন করেন এ প্রতিবেদকের সঙ্গে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের আত্মত্যাগের কাহিনি। মকবুল হোসেন জানান, ২৭ অক্টোবরের মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ থানার ধলই সীমান্ত ফাঁড়ি দখলে নেওয়ার জন্য চা বাগানের পূর্বদিকে অবস্থিত আউটপোস্টে অবস্থান নিই। এ সময় পাকিস্তানি সৈন্যদের খুব কাছাকাছি চলে আসি। পাকিস্তানি সৈন্যদের চেয়ে আমরা একটু উঁচু ও সুবিধাজনক স্থানে ছিলাম। ২৮ তারিখ সুবেহ সাদিকের আগ মুহূর্তে মেজর কাইয়ুম আমাকে ক্যাম্প থেকে বের হতে বলেন। অন্য কেউ এগিয়ে আসার সাহস পাচ্ছিল না। তিনি গ্রেনেড দিয়ে আমাকে একটি গাছের ওপর উঠিয়ে দেন। ধীরে ধীরে কয়েকজন সৈন্য চা বাগানের ভিতর গ্রেনেড নিয়ে অবস্থান নেয়। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল সৈন্যদের ভয় দেখিয়ে এ অবস্থান থেকে বিতাড়িত করে ঘাঁটি দখলে নেওয়া। যুদ্ধের সময় আলফা, বিটা, গামা, ডেল্টা এসব প্রতীক উচ্চারণ করে বিভিন্ন অ্যাকশনের নির্দেশনা দেওয়া হতো।

বোম্বিংয়ের জন্য ব্যবহার হতো আলফা প্রতীক, যা আমার জানা ছিল না। আলফা উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সৈন্যরা গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটাতে থাকে। কিন্তু পাকিস্তানি সৈন্যরা পাল্টা আক্রমণ তো দূরের কথা, বরং এ পরিস্থিতিতে তারা একেবারে চুপ থাকে। প্রকৃতপক্ষে এটা ছিল তাদের কৌশলী ভূমিকা। এ ঘটনার পর ক্যাপ্টেন নূর তাদের মেশিনগান পোস্টে হামলা করার জন্য মুখিয়ে পড়ে। মুখোমুখি আক্রমণ করতে যাওয়াটা একেবারেই ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। সৈনিক হামিদুর রহমানকে গ্রেনেড দিয়ে পাহাড়ি খাল অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ফ্রন্টলাইনে আমরা ৩০-৩৫ জন যোদ্ধা ছিলাম। একটু দূরে আমাদের আরও দুই প্লাটুন সৈন্য ছিল। একটু অগ্রসর হতেই আচমকা চারটি মেশিনগান থেকে পাল্টা গুলিবর্ষণ শুরু করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। শুরু হয় তুমুল যুদ্ধ। এ সময় ক্যাপ্টেন নূর, আবদুর রহমান, হামিদুর রহমান ও আমি গুলিবিদ্ধ হই। আমার পায়ে ও কোমরে গুলি লাগে। হামিদুরের গুলি লাগে কপালের মাঝখানে। যুদ্ধ শেষে হামিদুরের লাশ পড়ে থাকতে দেখি। আমি ধর্মনগর হয়ে ভারতের শিলংয়ে একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিই। এ যুদ্ধে আমরা জয়ী হই।  ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফৌজিয়া সিদ্দিকা বলেন, তাঁর ভাতা কেন আটকে গেছে সে বিষয়ে খোঁজ নেব। আশা করছি বিষয়টি দ্রুত সমাধান করতে পারব।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর