Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২৩ জুলাই, ২০১৯ ২২:৩১

পানির নিচে সোনাতলার ৭৩ গ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া:

পানির নিচে সোনাতলার ৭৩ গ্রাম

বগুড়ায় বন্যায় তিন উপজেলার মধ্যে দুটি উপজেলায় পানি কমলেও অপরটিতে পানি বেড়ে ব্যাপক বন্যা দেখা দিয়েছে। যমুনা নদীতে পানি কমে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। যুমনায় পানি কমছে বলে জেলার সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি আর অবনতি হয়নি। তবে বাঙালি নদীর পানি বিপদসীমার প্রায় ৯৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে যাচ্ছে বলে সোনাতলা উপজেলায় বানভাসিদের সংখ্যা বেড়েছে।

বগুড়া জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আজাহার আলী মন্ডল জানান, গত তিন দিনের বন্যার পানিতে সোনাতলা উপজেলায় কমপক্ষে ৭৩টি গ্রাম নিমজ্জিত হয়েছে। এর সাথে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ। সোনাতলায় এখন পর্যন্ত ১২০টি বাড়ি সম্পূর্ণরুপে ভেঙে যাওয়ার হিসাব পাওয়া গেছে। আংশিক ভাঙঙ্গনের মুখে পড়েছে ৭১০টি। রাস্তা ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২২ কিলোমিটার। সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর জমিরি বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ত্রাণ দেয়া অব্যাহত রয়েছে। 

বগুড়ার সোনাতলার বানভাসিরা বরছেন, চলতি বছরের বন্যায় উপজেলার তেকানীচুকাইনগর ইউনিয়নের খাবুলিয়া চর, দাউদেরপাড়া চর, মহব্বতরপাড়া চর, সরলিয়া চর, জন্তিয়ারপাড়া, মহেশপাড়া ও পূর্ব তেকানী। পাকুল্লা ইউনিয়নের রাধাকান্তপুর, মির্জাপুর, পূর্ব সুজাইতপুর, শ্যামপুর, নিশ্চিন্তপুর, উত্তর করমজা, মোনারপটল, সাতবেকী, জোড়গাছা ইউনিয়নের হলিদাবগা, পোড়াপাইকর, গুড়াভাঙ্গা, সদর ইউনিয়নের রংরারপাড়া ও রানীরপাড়া এলাকায় যমুনা ও বাঙালী নদীর ভাঙনে প্রায় দেড়শ ’শ ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও আরও প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গেছে।

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার তেকানীচুকাইনগর ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ শামছুল হক জানান, তার ইউনিয়নের ৭টি চরের অর্ধশত ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও গাছপালা, জায়গা জমি এবং ফসলের মাঠ যমুনা নদী ও বাঙালির নদীর পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বানভাসিরা চলে যাচ্ছে স্বজনের বাড়ি। কেউ বা উচুঁ স্থানে গিয়ে মাচা করে আশ্রয় নিয়েছে। অনেক পরিবার বাঁধে খোলা আকাশের নিচেসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। 

বগুড়ায় জুলাই মাসের ১২ তারিখ থেকে যমুনা ও বাঙালি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা দেখা দেয়ার পর এখন সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় বন্যার পানি কমছে। বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তারা বলছেন দুটি উপজেলায় দুই এক দিনের মধ্যে পানি কমে বিপদসীমার নিচে নামবে। বাঙালি নদীর পানি কমতে আরো কয়েকদিন সময় লাগবে। গত ২১ জুলাই যমুনা নদীর পানি ছিল  ৪৩ সেন্টিমিটার বিপদ সীমার উপর। যদিও জেলার তিনটি উপজেলা সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও ধুনটের ১৭৯ টি গ্রাম এখনও জলমগ্ন রয়েছে। 

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ জানান, যমুনা নদীতে পানি কমে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। বাঙালি নদীর পানি বিপদসীমার প্রায় ৯৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে যাচ্ছে। সোনাতলায় কয়েকটি গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। 

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য