শিরোনাম
প্রকাশ : ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৭:৫৫

তোরা কোনো মায়ের পেট থেকে পড়িসনি, তোদের বিচার যেন দেইখ্যা যাইতে পারি: রুম্পার মা

অনলাইন ডেস্ক

তোরা কোনো মায়ের পেট থেকে পড়িসনি, তোদের বিচার যেন দেইখ্যা যাইতে পারি: রুম্পার মা
রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার মা (বামে) ও রুম্পা (ডানে)। সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে দুই বাড়ির মাঝ থেকে উদ্ধার নিহত রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার (২১) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে বাবা-মা দু’জনই এখন শোকে বিহ্বল। বাবা রুকন উদ্দিন নিজেকে সামলে নিতে পারছেন না কোনো ভাবেই। বার বার ছুটে যাচ্ছেন মেয়ের কবরের পাশে। অসহায় পিতার ঝড়ে পরা অশ্রুতে কবরের মাটিও ভিজে উঠছে।  

অপরদিকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন রুম্পার মা নাহিদা আক্তার। আর্তনাদ করছেন আর সন্তান হারানোর বেদনায় তিনি মুষড়ে পড়েছেন। কান্না যেন থামছেই না। কান্নার শব্দের সাথে সাথে ভেসে আসছে মেধাবী সন্তানের নানা কথা। কখনো চিৎকার করে কাঁদছেন, কখনো কাঁদতে কাঁদতে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। 

কিছু বলতে চেয়েও যেন পারছেন না। হঠাৎ চিৎকার দিয়ে বলে উঠলেন, 'তোরা এত্ত খারাপ’ তোদের মনে মায়া দয়া নেই। তোরা কোনো মায়ের পেট থেকে পড়িসনি, তোদের বিচার যেন দেইখ্যা যাইতে পারি।'

রুম্পার মা’র বুকফাটা এমন হাহাকার গ্রামবাসীর বুকেও যেন হাতুড়ি মারছে। এলাকাবাসী বলছেন, মৃত্যুর পরিণতির প্রতিশব্দ এমনভাবে নাড়া দিয়ে যায়নি। এ শুধু মৃত্যুই নয়, বাবা-মায়ের আমৃত্যু বুকফাটা যন্ত্রণা। 

এদিকে ফেনীর নুসরাত হত্যা মামলার মতোই রুম্পার হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। তারা বলছেন, অপরাধীদের দ্রুত সনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। 

উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডের আয়েশা শপিং কমপ্লেক্সের পেছনে দুই বাড়ির মাঝ থেকে উদ্ধার করা হয় রুবাইয়াত শারমিন রুম্পা (২১)-এর মরদেহ। তার মৃত্যু নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি।

জানা গেছে, রুবাইয়াত শারমিন রুম্পা স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্রী ছিলেন। তার বাবা পুলিশ পরিদর্শক রোকন উদ্দিন। তাদের বাড়ী ময়মনসিংহ হলেও থাকতেন মালিবাগের শান্তিবাগে।

আজ শুক্রবার রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাস্থলের পাশে তিনটি ভবন আছে। এগুলোর যেকোনও একটা থেকে পড়ে রুম্পা মারা গেছেন। আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে, মামলা তদন্তাধীন। 

ঢামেকের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, উপর থেকে পড়েই তরুণীর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হতে তার মৃতদেহ থেকে হাইভেজেনাল সপসহ ভিসেরা সংগ্রহ করা হয়েছে। তা পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। সেই রিপোর্ট এলে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। 

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য