শিরোনাম
প্রকাশ : ১২ জুলাই, ২০২০ ১৯:২৯

কুড়িগ্রামে দ্বিতীয় দফা বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামে দ্বিতীয় দফা বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি

কুড়িগ্রামে ধরলা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রসহ সবকটি নদনদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। উজানের পানি ও অবিরাম বৃষ্টির কারণে নদনদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে দ্বিতীয় দফা বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে ধরলা নদীর সেতু পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার ওপর, তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপরে এবং ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী পয়েন্টে ২২ সেন্টিমিটার ওপর এবং দুধকুমর নদীর নুনখাওয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

ফলে পানি বাড়ার সাথে সাথে জেলায় দ্বিতীয় দফা বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বানভাসী মানুষদের কষ্ট এখন চরমে পৌঁছেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে নতুন করে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ।

এদিকে,বন্যায় আবারো জেলার সাড়ে ৪ শতাধিক চর ও দ্বীপচরের নিম্নাঞ্চলসমূহ প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পড়েছেন চরম সংকটে। প্রথম দফা বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই দ্বিতীয় দফা বন্যা এখন বানভাসীদের মারাত্বক দুর্ভোগ নিয়ে এসেছে। 

প্রথম দফায় তলিয়ে যাওয়া বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়ে গেলেও সেগুলো আবারও নিমজ্জিত হয়েছে। দুই দফা বন্যায় অনেকেই এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার বাড়িঘর মেরামত করে ফিরতে শুরু করলেও বানের পানি আবার বাড়িতে চলে আসায় তাদের আর ফেরা হয়নি বলে জানায়।

চরের গ্রামীণ সড়কগুলোতে পানি উঠেছে। অনেক এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে নৌকা ও কলাগাছের ভেলা ব্যবহার করছে চরবাসী। শুকনো জায়গার অভাবে অনেকেই রান্না করতে পারছে না। 

প্রবল বর্ষণেও রাস্তার উপর চালা করে অনেকে আশ্রয় নিয়েছে। সদরের কালুয়ার চর ও হলোখানার সারডোব এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ ১৯টি পয়েন্টের বাঁধ নদী ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।

জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম জানান, বন্যা মোকাবেলার জন্য সব ধরণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করে ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।                


বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ তাফসীর


আপনার মন্তব্য