শিরোনাম
প্রকাশ : ৪ আগস্ট, ২০২০ ১৮:১৪

দিনাজপুরে চামড়া ব্যবসায় ধস, বিপাকে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা

দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুরে চামড়া ব্যবসায় ধস, বিপাকে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা

ঢাকার বিভিন্ন ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে পাওনা টাকা না পাওয়া, শ্রমিক ও লবনের খরচ এবং চামড়া বিক্রি নিয়ে দিনাজপুরে চামড়া ব্যবসায়ে ব্যাপক দরপতন ও ধস নেমেছে। ছাগলের চামড়া কেউ কিনছে না। কারণ পরিবহনসহ লবণজাত করতে যে খরচ, বিক্রি করে তা উঠবে না। করোনার এই সময়ে চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। তারা অর্থের অভাবে চামড়া সংগ্রহ করতে অনেকেই বের হয়নি। সরকারের বেধে দেওয়া দামের চেয়ে কমমূল্যে চামড়া কিনেও বিক্রি করতে পারছেন না তারা। সাধারণ মানুষ অনেকে বিক্রি করতে না পেরে মাদ্রাসা বা এতিমখানায় চামড়া দিয়ে গেছেন। মঙ্গলবার পর্যন্ত গরুর প্রায় ১৫ হাজারের মত চামড়া সংগ্রহ হয়েছে বলে জানান দিনাজপুর চামড়া ব্যবসায়ী মালিক গ্রুপ এর সভাপতি জুলফিকার আলী স্বপন।

ঈদুল আজহায় উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ দিনাজপুরের রামনগর চামড়া মার্কেট, যেখানে অর্ধলক্ষাধিক চামড়া আমদানী হয় সেখানে অর্ধেকের চেয়েও কম আমদানী হয়েছে। সর্বোচ্চ ২শ থেকে ৪শ টাকায় মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনে আড়তদারদের কাছে সেই দামেও বিক্রি করতে পারছেন না। চামড়া বিক্রি করতে না পারলে ফেলে দেওয়ারও কথা বলেছেন অনেক মৌসুমী ব্যবসায়ী। ছাগলের চামড়া ১০-১৫ টাকায় আড়তে সোমবার বিক্রি হলেও কেউ নিতে চায় না। মৌসুমী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ চামড়া নিতে আড়তদার আর ব্যবসায়ীরা অনীহা প্রকাশ করেছেন।

জানা যায়, একবার লবন দিতে গরুর চামড়ায় ৪০টাকা এবং ছাগলের ১০টাকা মজুরি দিতে হয়। এর সাথে যোগ হবে লবনের ও ঢাকায় পাঠানোর খরচ। গরুর একটি চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে পাঠানো পর্যন্ত খরচ ২৫০ টাকা। এ অবস্থার জন্য অনেক চামড়া ব্যবসায়ী কেনাবেচা থেকে দুরে রয়েছেন। 

দিনাজপুর চামড়া ব্যবসায়ী মালিক গ্রুপ এর সভাপতি জুলফিকার আলী স্বপন জানান, এবার চামড়া এই মার্কেটে ঈদের দিন থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত অনেক কম চামড়া এসেছে। যা গতবারের চেয়েও কম। করোনায় মানুষ কুরবানি কম দিয়েছে নাকি কেউ নিজেই চামড়া লবন দিয়ে রেখেছে এটা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। গরুর চামড়া ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকায় কিনেছি।

তিনি আরও জানান, ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে এবার মাত্র ৫ শতাংশ টাকা পেয়েছেন এবং এখনও প্রায় ৮ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে।  


বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর