শিরোনাম
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১০:৫৪
আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১১:০৪

আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটিতে সভাপতির ৫ নিকটাত্মীয়!

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:

আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটিতে সভাপতির ৫ নিকটাত্মীয়!
প্রতীকী ছবি

কেন্দ্রে অনুমোদনের জন্য জমা দেওয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মঈনুদ্দীন মন্ডল প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটিতে নিকটাত্মীয় পাঁচজনকে পদ দিয়েছেন বলে অভিযোগ। 

অন্যদিকে অনেক ত্যাগী নেতাকে বাদ দিয়ে বিতর্কিতদের জেলা কমিটিতে স্থান দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে তৃণমূল ত্যাগী নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দানা বেধে উঠেছে। বিষয়টি দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাকে লিখিতভাবে জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জেলার একাধিক নেতা। 

জানা গেছে, সভাপতির আপন ভাই অরাজনৈতিক ব্যক্তি মোর্তুজা আলীকে সহ-সভাপতি আর মোর্তুজা আলীর ছেলে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আরিফুর রেজা ইমনকে দেয়া হয়েছে দপ্তর সম্পাদকের পদ। গত ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার ঢাকায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রস্তাবিত এই কমিটি জমা দেয়ার সময় বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেলে সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করেছে নেতাকর্মীদের মাঝে। 

তাদের অভিযোগ, অতীত আন্দোলন সংগ্রামে জেল-জুলুমের শিকার ত্যাগী নেতাকর্মীরা যেমন বাদ পড়েছেন, তেমনি নিষ্ক্রিয় ও অনুপ্রবেশকারীরা বড় সংখ্যায় কমিটিতে ঢুকেছেন। গত ৩ মার্চ মঈনুদ্দীন মন্ডলকে সভাপতি ও আব্দুল ওয়াদুদকে সাধারণ সম্পাদক করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় দলীয় নির্দেশে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা কেন্দ্রে জমা দেয়া হয়েছে। 

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুরে এই কমিটি কেন্দ্রে জমা দেওয়ার কথা থাকলে পদ ভাগাভাগি নিয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে দিনভর দর কষাকষি হয় এবং সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে সমঝোতার পর সন্ধ্যার আগে কেন্দ্রে কমিটি জমা জমা হয়েছে।  

প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকায় জেলা সভাপতি মঈনুদ্দীন আপন ছোট ভাই মোর্তুজা আলীকে করেছেন কমিটির সহ-সভাপতি, মোর্তুজা আলীর ছেলে তথা সভাপতি মইনুদ্দীন মন্ডলের আপন ভাতিজা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের চলতি কমিটির সভাপতি আরিফুর রেজা ইমনকে করা হয়েছে কমিটির দপ্তর সম্পাদক, অপর ভাতিজা বাবু মন্ডলকেও রাখা হয়েছে কমিটিতে। কমিটির সদস্য জেলা যুবলীগের বর্তমান সভাপতি সামিউল হক লিটন সভাপতির নাতি। আরেক সংগঠনিক সম্পাদক মেসবাহুল শাকের জ্যোতি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। কোষাধ্যক্ষ এরফান আলী একজন ব্যবসায়ী, তাকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কোনদিন দেখা যায়নি। সহ-সভাপতি লুৎফর রহমান মতিনও আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেননি। বছর দুয়েক আগে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে আসা শিবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলামকে করা হয়েছে সহ-সভাপতি। শ্রম সম্পাদক হাবিবুর রহমান মজনু স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে পরিচিত। সদস্য তাবারিয়া চৌধুরী বিএনপি হয়ে আওয়ামী লীগে এসেছেন। সাম্যবাদি দলের নেতা পরিচয়দানকারী কামাল উদ্দিনকেও রাখা হয়েছে আ.লীগের কমিটিতে। 

কমিটিতে এমন অনেকেই বিভিন্ন পদে এসেছেন যারা অতীতে দলের রাজনীতিতে ছিলেন না বলে অভিযোগ করেছেন নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে স্বৈরাচার, জামাত-বিএনপি জোট বিরোধী আন্দোলনে জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন এমন ত্যাগী নেতারা বাদ পড়েছেন কমিটি থেকে। 

এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপুর্ণ এই কমিটিতে রাজধানী শহর ঢাকায় অবস্থান করা ৪/৫ জনকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে তাদের কোন ভূমিকা নেই। 

তবে কমিটির তালিকা প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মঈনুদ্দীন মন্ডল বলেন, যাকে যোগ্য বলে মনে করা হয়েছে তাকেই জেলা কমিটিতে রাখার জন্য নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।


বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর